ধামইরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় মামলা দায়ের
নওগাঁর ধামইরহাটে এক সিনিয়র সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পূর্ব বাজার এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় মামলা দায়ের করেছেন।আহত সাংবাদিক এম এ মালেক ধামইরহাট উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা করে আসছেন। সকাল ৮টার দিকে তিনি পূর্ব বাজার এলাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে কিছু দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।[TECHTARANGA-POST:769]প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে যায়। হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে এসে তাকে মারধর করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এতে এম এ মালেক আহত হন এবং স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।এ ঘটনায় এম এ মালেক নিজে বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলায় কারা অভিযুক্ত হয়েছেন বা কতজনকে আসামি করা হয়েছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে।স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় এসব ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও বেশিরভাগই আড়ালে থেকে যায়। ফলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় কাজ করা সাংবাদিকরা অনেক সময় বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে তারা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। এর মধ্যে হুমকি, মামলা এমনকি শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটে।ধামইরহাট উপজেলা তুলনামূলক শান্ত এলাকা হলেও মাঝে মাঝে ছোটখাটো বিরোধ বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। তবে একজন প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা এই এলাকায় বিরল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মতে, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তারা মানুষের সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাজ করেন। তাই তাদের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, পুরো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হয়।[TECHTARANGA-POST:710]আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো এসব ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। এতে একদিকে যেমন অপরাধ কমবে, অন্যদিকে সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে সাংবাদিকতা পেশা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
সব মিলিয়ে, ধামইরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলার এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সাংবাদিকরা কতটা নিরাপদ? দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রশাসনের ওপরই বর্তায়।