ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কড়া বার্তা: ট্রাম্পের পাশে রাজা চার্লস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একমত যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ কথা বলেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ওই নৈশভোজটি আয়োজন করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সফররত রাজা চার্লসের সম্মানে। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের সামনে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রাজা চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে দুজনের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট এবং একমুখী।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ওই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ভবিষ্যতেও শক্ত অবস্থান ধরে রাখবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা কখনোই তাদের পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে দেব না।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে রাজা চার্লস তাঁর চেয়েও বেশি দৃঢ় অবস্থানে আছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাঁর প্রশাসন এ অঞ্চলের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো কৌশল বা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর মন্তব্যে বোঝা যায়, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ ধরনের সমন্বয় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। বিশেষ করে ইরানের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি থাকলে তা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে, যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য।
এই ইস্যুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ছিল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, যা ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (JCPOA) নামে পরিচিত। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনতে সম্মত হয় এবং বিনিময়ে তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) নিয়মিত ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে কখনো অগ্রগতি, আবার কখনো উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজা চার্লস সাধারণত সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে দূরে থাকেন। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় রাজা বা রানীর ভূমিকা অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। তাই এমন একটি স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাঁর নাম উল্লেখ হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। যদিও তাঁর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে ইরান ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান যদি একই থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আলোচনার ওপর।