দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ‘কোনো ছাড় নয়’, কঠোর বার্তা আইজিপির

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদকের বিস্তার ঠেকাতে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত আইজি’জ ব্যাজ, শীল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিটের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও ইউনিটকে সম্মাননা দেওয়া হয়।মাদককে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে পুলিশঅনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি পরিবার ও সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ মাঠপর্যায়ে অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:1241]তিনি বলেন, “যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে বাহিনীর ভেতরের কেউ জড়িত থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”আইজিপির এই বক্তব্যকে অনেকেই পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে।‘পেশাদারিত্বই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি’অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইজিপি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে।তার ভাষায়, যারা এবার পুরস্কার পেয়েছেন তারা সাহস, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদার আচরণের মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা ধরে রাখতে আরও সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।৩৪১ পুলিশ সদস্য পেলেন বিশেষ ব্যাজঅনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে “পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫” প্রদান করা হয়। আইজিপি নিজ হাতে তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান, পেশাগত দক্ষতা এবং জনসেবায় ইতিবাচক ভূমিকার ভিত্তিতে এসব সদস্যকে নির্বাচন করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন জেলা, মেট্রোপলিটন ইউনিট এবং বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এগিয়ে চট্টগ্রাম ও র‍্যাব ইউনিটপুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে বিশেষ সাফল্য পাওয়া ইউনিটগুলোকেও অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়। গত বছরের অভিযানের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রুপে এ মূল্যায়ন করা হয়।অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে “ক” গ্রুপে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং তৃতীয় হয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।“খ” গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় স্থান অর্জন করে।এ ছাড়া “ঘ” গ্রুপে র‍্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ প্রথম, র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার দ্বিতীয় এবং র‍্যাব-২ ঢাকা তৃতীয় হয়। অন্য গ্রুপগুলোতেও বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট কৃতিত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের জন্য স্বীকৃতি পায়।মাদক উদ্ধারে বিভিন্ন জেলার সাফল্য২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে সাফল্যের ভিত্তিতেও কয়েকটি ইউনিটকে সম্মাননা দেওয়া হয়। “ক” গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় কুমিল্লা জেলা পুলিশ এবং তৃতীয় স্থান পায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।“খ” গ্রুপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ প্রথম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।র‍্যাব ইউনিটগুলোর মধ্যে “ঘ” গ্রুপে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার প্রথম স্থান পায়। দ্বিতীয় হয় র‍্যাব-৯ সিলেট এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে র‍্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যেও প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে ওয়ারী বিভাগ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ দ্বিতীয় এবং মতিঝিল বিভাগ তৃতীয় হয়।শীল্ড প্যারেডে সেরা যৌথ মেট্রোপলিটন দলঅনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম স্থান অধিকার করে যৌথ মেট্রোপলিটন দল। দ্বিতীয় হয় এপিবিএন দল এবং তৃতীয় স্থান পায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ দল।অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।সামাজিক প্রভাব ও বিশ্লেষণবাংলাদেশে মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সামাজিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে। কারণ মাদকাসক্তি বাড়লে অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।এ অবস্থায় পুলিশ প্রধানের কঠোর বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বাহিনীর অভ্যন্তরে দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান জনআস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ফল পেতে হলে শুধু অভিযান নয়, পুনর্বাসন ও সচেতনতামূলক উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।[TECHTARANGA-POST:1244]ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বার্তাঅনুষ্ঠানের শেষ দিকে আইজিপি আবারও পুলিশ সদস্যদের জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পুলিশকে আরও মানবিক ও পেশাদার ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমানে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অপরাধ দমনে আরও ইতিবাচক ফল আসবে।

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ‘কোনো ছাড় নয়’, কঠোর বার্তা আইজিপির