প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশি হাজিদের মৃত্যু বাড়ছে, পৌঁছেছেন ৩৮ হাজারের বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৮ হাজার ২০৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। তবে এই যাত্রার মাঝেই শোকের খবর—এখন পর্যন্ত ৭ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
হজ মৌসুম শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, মোট যাত্রীদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৯৯ জন গেছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়, আর ৩৪ হাজার ৫০৮ জন গেছেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। প্রতি বছরই বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের বড় একটি অংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যান, কারণ এতে প্যাকেজ ও সেবার ভিন্নতা থাকে।
হজযাত্রীদের পরিবহনের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি সৌদি এয়ারলাইনস ৩৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজের সময় যাত্রীদের চাপ সামলাতে প্রতি বছরই এই ফ্লাইট সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।
তবে এরই মধ্যে সাতজন হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া সাতজনই পুরুষ। তাদের মধ্যে পাঁচজন মক্কায় এবং দুজন মদিনায় মারা গেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বয়সজনিত অসুস্থতা ও স্বাভাবিক কারণে এসব মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রংপুরের কোতোয়ালির বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী মো. শামসুল আলম। তিনি মদিনায় অবস্থানকালে মঙ্গলবার স্বাভাবিকভাবে মারা যান। তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনার একজন হজযাত্রী ছিলেন এবং চলতি মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনার মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
এর আগে ২৭ এপ্রিল জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. আব্দুল হাই (৬১) মদিনায় মারা যান। একই দিনে মক্কায় মারা যান শেরপুরের শ্রীবরদীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮)। এছাড়া ২৬ এপ্রিল দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪), ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের পাগলার মো. সেরাজুল হক (৬৬), ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম (৭০) এবং ২১ এপ্রিল জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) মৃত্যুবরণ করেন।
হজযাত্রার সময় এ ধরনের মৃত্যু নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া কিছু হজযাত্রী অসুস্থতা বা বয়সজনিত কারণে মারা যান। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম, ভিড় এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি অনেক সময় বয়স্ক হাজিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এজন্য সৌদি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো হজ মৌসুমে বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখে।
বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন আনার চেষ্টা করা হয়। হজ অফিস, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যাত্রীদের নিবন্ধন থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে যাত্রীদের তথ্য ও সেবা আরও সহজ হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ধাপে ধাপে আরও হাজার হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছাবেন। তাই এই সময়টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়, কারণ যাত্রা, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুই তখন চাপের মধ্যে থাকে।
সব মিলিয়ে, এবারের হজযাত্রা ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হলেও মৃত্যুর খবর কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারি ব্যবস্থা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। সামনে আরও যাত্রী সৌদিতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর