প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্র আন্দোলনের অর্থায়নে অনিয়মেরঅভিযোগ, মুখোমুখি রিফাত রশিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ছাত্র রাজনীতির অর্থায়ন নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রিফাত রশিদ এবং ‘সেড ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ এখন সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলের বিশ্লেষণভিত্তিক আলোচনায় এই বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের তৎকালীন মুখপাত্র সিন্থিয়া জাহিন আয়েশা এক কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোট প্রচারণার নামে এই অর্থ ব্যয় করা হলেও তার সঠিক হিসাব বা স্বচ্ছতা প্রকাশ করা হয়নি।
আলোচনায় আরও বলা হয়, সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এই অর্থের উৎস হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গণভোটের ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার জন্য জনমত গঠনে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার পরিকল্পনা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে এক কোটি টাকা ছাড় করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—রাষ্ট্রীয় অর্থ কীভাবে এত দ্রুত একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে গেল?
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘সেড ফাউন্ডেশন’ নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই ফাউন্ডেশনের কোনো নিবন্ধন নেই, পূর্বের কোনো কার্যক্রমের ইতিহাসও পাওয়া যায় না। অথচ হঠাৎ করেই এই সংগঠনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। বিষয়টি অনেকের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
এদিকে, রিফাত রশিদ নিজেও এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেন, সব অর্থের অডিট রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত প্রচারণা, যার উদ্দেশ্য তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাকে কিছুটা বিরক্তও দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এই পুরো ঘটনাকে ‘রাজকীয় চুরি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, শুধু রিফাত রশিদ নয়, যারা এই অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—রিফাতের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা কেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন? সিন্থিয়া জাহিন আয়েশার মতো নেতারা সরাসরি অভিযোগ তোলায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লিফলেট, পোস্টার ও ফেসবুক প্রচারণার নামে যে খরচ দেখানো হয়েছে, তার বাস্তব প্রভাব অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি বরাবরই প্রভাবশালী একটি ক্ষেত্র। অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে অর্থায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ খুব কমই সামনে এসেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত রাষ্ট্রীয় আর্থিক লেনদেন ও নীতিনির্ধারণে কঠোর নিয়ম মেনে চলে। তাই এই ধরনের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
রাজপথে আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা বলে, তার সঙ্গে এই বিপুল অর্থের হিসাবের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। এক কোটি টাকার দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন না থাকায় সন্দেহ আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধু একটি সংগঠন বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ছাত্র রাজনীতির স্বচ্ছতা, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের নীতি এবং জবাবদিহিতার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এই অভিযোগ কতটা সত্য, আর কতটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের তদন্ত ও প্রমাণের ওপর। তবে আপাতত এই বিতর্ক ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে থেকেই যাচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর