প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ফরিদপুরে রক্তাক্ত রাত: দাদি-ফুফুসহ ৩ জন খুন, ভোরেই ধরা আকাশ মোল্লা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফরিদপুরের সদর উপজেলার একটি গ্রামে এক রাতেই ঘটে যায় ভয়াবহ ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ড। দাদি, ফুফু এবং এক প্রতিবেশীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামি জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন, ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আরও গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে বিয়ে না হওয়া এবং মানসিক হতাশা থেকেই এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন ধরেই আকাশ মোল্লার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাজারে যাওয়ার পথে পাশের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনতে পান। সঙ্গে থাকা আরেকজনকে নিয়ে তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন, আকাশ মোল্লা তার দাদি আমিনা বেগম ও ফুফু রাহেলা বেগমকে কোদাল দিয়ে আঘাত করছেন। বাধা দিতে গেলে কাবুল হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। এছাড়া আরও দুইজন গুরুতর আহত হন, যাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ, ডিবি এবং র্যাবের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার ভোরে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আসামির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হতে পারে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলে পারিবারিক বিরোধ বা মানসিক চাপ থেকে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব এবং পারিবারিক সমস্যার সঠিক সমাধান না হওয়ায় অনেক সময় এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রযুক্তি ও সমন্বিত অভিযানের ভূমিকা বাড়ছে। এই ঘটনাতেও পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও র্যাবের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সবশেষে বলা যায়, ফরিদপুরের এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মানসিক ও পারিবারিক সংকটেরও একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত বিচার এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর