প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণহানি, বহু যাত্রী এখনও আটকা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছেই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক যাত্রী, আর ধ্বংসস্তূপের ভেতরে এখনও কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে। সোমবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতের দিকে জাকার্তার পাশের বেকাসি সিটি রেল স্টেশনের কাছে একটি কমিউটার ট্রেন এবং একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অনেকেই আটকা পড়ে যান।দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেনের বগিগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধাতব কাঠামো কেটে কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে বগি কাটা হচ্ছে, যাতে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করে আনা যায়।ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনও কয়েকজন যাত্রী জীবিত অবস্থায় ভেতরে আটকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেলওয়ে সংস্থা কেএআই জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা আহতদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি ট্যাক্সি কমিউটার ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনটি লাইনেই থেমে যায়। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা দূরপাল্লার ট্রেনটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে ভয়াবহ এই সংঘর্ষ ঘটে।দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি হলো জাকার্তা-চিকারং রুটের একটি কমিউটার ট্রেন এবং ‘আর্গো ব্রোমো আংগ্রেক’ নামের একটি দ্রুতগামী দূরপাল্লার ট্রেন। এই ট্রেনটি জাকার্তা থেকে সুরাবায়া পর্যন্ত চলাচল করে এবং দেশটির অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রেলসেবা হিসেবে পরিচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার মতো জনবহুল দেশে রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। প্রতিদিন লাখো মানুষ এই সেবার ওপর নির্ভর করেন। তবে একই সঙ্গে দেশটির রেল নেটওয়ার্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে লেভেল ক্রসিংগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।এর আগে ২০১০ সালে সেন্ট্রাল জাভায় একটি ট্রেন অন্য একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনকে ধাক্কা দিলে ৩৬ জন নিহত হন। আবার ২০১৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দিলে অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।রেলওয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় গেট এবং লেভেল ক্রসিংয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও যাত্রীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এই সংঘর্ষ ঘটলো এবং কারও অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, জাকার্তার কাছে এই ট্রেন দুর্ঘটনা আবারও রেল নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে না। তবে এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, দ্রুত উন্নয়নশীল পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর