প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
শাহবাগ উত্তেজনার জেরে আটক শিবির নেতাদের মুক্তি, ভোরে ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাদিক কায়েম
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভোরে থানা থেকে ছাড়া পেলেন শিবির নেতারা, সারা রাত পাশে ছিলেন ভিপি সাদিক কায়েমরাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় আটক থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকে অবশেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আটক নেতাদের ছাড়িয়ে আনতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম সারা রাত থানার সামনে অবস্থান করেন। মুক্তির পর তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শাহবাগ থানা থেকে কয়েকজন শিবির নেতাকে ধানমণ্ডি থানায় নেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের মুক্তির দাবিতে শিবিরের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।জানা গেছে, আটক নেতাদের ছাড়াতে সারা রাত থানার সামনে অবস্থান করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস ফরহাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ভোরের দিকে আটকদের মুক্তি দেওয়া হলে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।এই ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ভুয়া ফটোকার্ড ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যাকে নিয়ে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে এটি ছড়ানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।তবে সন্ধ্যার দিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল বিশ্লেষণে জানা যায়, ওই পোস্টটি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ করেননি। বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। এরপরও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও তার সহযোগীরা শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনার পর পুলিশ তাদের কয়েকজনকে শাহবাগ থেকে ধানমণ্ডি থানায় নিয়ে যায়।এরপরই আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধানমণ্ডি থানার সামনে অবস্থান নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। সারা রাত সেখানে নেতাদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে এখানে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য বা গুজবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন পরিস্থিতি দ্রুত তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে।একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি বা পোস্ট এখন বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিষয় যাচাই না করে শেয়ার করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, আটক নেতাদের মুক্তি পাওয়ার পর ক্যাম্পাস এলাকায় আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে—সেই প্রত্যাশাই এখন সবার।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর