প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
জমি নিয়ে বিরোধ: নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, উঠানেই পাশাপাশি কবর
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। নিহত দম্পতি ও তাদের দুই ছোট শিশুকে বাড়ির উঠানেই পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে স্বজনদের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও কান্নায় ভেঙে পড়েন।বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামের ওই বাড়ির উঠানে চারটি কবর খোঁড়া হয়। সেখানে পাশাপাশি শায়িত করা হয় নিহত হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা, তাদের ৯ বছরের ছেলে পারভেজ রহমান এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তারের মরদেহ। মৃত্যুতেও যেন তারা একসঙ্গেই থেকে গেল—এমন কথাই বলছিলেন উপস্থিত স্বজনরা।এর আগে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো গ্রামে আনা হয়। মরদেহ পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ছুটে আসেন। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর নিঃশব্দ শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বাদ আসর জানাজা শেষে গ্রামের মানুষ চোখের পানিতে বিদায় জানান চারজনকে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামেই বসবাস করতেন। তাদের দুই সন্তান গ্রামের সবার খুব প্রিয় ছিল। প্রতিদিন বাড়ির উঠানেই খেলাধুলা করত তারা। সেই উঠানেই এখন চারটি কবর—এ দৃশ্য কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না।পুলিশ জানায়, গত সোমবার গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিজ ঘরের ভেতরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী এবং দুই শিশুকে। এমন নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম এবং ভাগ্নে শাহিন ও সবুজ।নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।পুলিশ আরও জানায়, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের ধরতে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ছাড়াও ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই যৌথভাবে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকায় আগে বড় ধরনের পারিবারিক বিরোধ নিয়ে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড খুব একটা ঘটেনি। তবে জমি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় বড় সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়—এ ঘটনাও তারই একটি করুণ উদাহরণ বলে মনে করছেন অনেকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভেতরে অবিশ্বাস তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে এই বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়। তাই এমন বিরোধ দ্রুত আইনি বা সামাজিকভাবে সমাধান করা জরুরি।
এই হত্যাকাণ্ডে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাই যেন শোকাহত হয়ে পড়েছে। ছোট দুই শিশুর নিষ্পাপ মুখ এখনো সবার চোখে ভাসছে। তাদের অকাল মৃত্যু মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—সম্পত্তির জন্য কতটা নির্মম হতে পারে মানুষ। এখন সবার একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর