প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা-র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ-এর সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি অনুরোধ জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তুরস্কে অনুষ্ঠিত Antalya Diplomacy Forum-এর ফাঁকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক সহায়তা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সব পক্ষকে সংযম দেখানো এবং সংলাপের মাধ্যমে মতভেদ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদি-র সঙ্গে বৈঠকেও একই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তখনও তিনি বাংলার জয়যাত্রা এবং অপরিশোধিত তেলবাহী আরেকটি বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সে সময় জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় ইরান বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-র মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগের জন্যও ধন্যবাদ জানায় ইরান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে আজারবাইজান-এ পৌঁছাতে সহযোগিতা করায় তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই সহায়তাকে তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Hormuz Strait। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। তাই এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-এর জন্য এই পথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজেদের জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একদিকে যেমন জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও সংযমের আহ্বান জানিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর