প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকাসহ ৯ জেলায় গরমের তীব্রতা বাড়ছে, নতুন এলাকায় ছড়ানোর শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের ৯টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ শুধু স্থায়ীই থাকবে না, বরং আগামী কয়েক দিনে দেশের আরও নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে জনজীবনে গরমের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে এই তাপপ্রবাহ বইছে। এসব এলাকায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় মানুষের দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি বাড়ছে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এর ফলে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হবে। সাধারণত এ সময়টায় দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ বেশি দেখা যায়। কারণ এসব এলাকায় বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয় এবং শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
অন্যদিকে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভিন্ন ধরনের আবহাওয়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় ঢাকার বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ। এই আর্দ্রতা বেশি থাকলে গরমের অনুভূতি আরও বাড়ে, ফলে মানুষ বেশি অস্বস্তি অনুভব করেন।
সাধারণত এপ্রিল মাস থেকেই দেশে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে এবং মে মাসে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও তাপপ্রবাহের সময়কাল ও তীব্রতা বেড়েছে বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলে গাছপালা কমে যাওয়া ও কংক্রিটের নির্মাণ বেড়ে যাওয়াও তাপমাত্রা বাড়ার একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিত পূর্বাভাস ও সতর্ক বার্তা দিয়ে থাকে, যাতে মানুষ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়টায় পর্যাপ্ত পানি পান করা, অপ্রয়োজনে রোদে বাইরে না যাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
সব মিলিয়ে দেশের একাংশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়লেও অন্য কিছু এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও পরিবর্তনশীল থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর