প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
হাম পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ, এক মাসে আক্রান্ত ২৪ হাজারের বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সারাদেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল, আর দুজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত একদিনেই নতুন করে ১ হাজার ১৭০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, দেশজুড়ে রোগটির সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসের একটু বেশি সময়ের মধ্যে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৭৭৬ জনে। এদের মধ্যে ১৬ হাজার ১৭২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এত বেশি সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এদিকে একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬১৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হয়েছে আরও ১৭৪ জন রোগী। তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ হাজার ২৫৮ জন রোগী।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং দ্রুত একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না নিলে এই রোগ মারাত্মক আকার নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দেয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।বাংলাদেশে এর আগেও কয়েকবার হাম রোগের প্রকোপ দেখা গেছে। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কারণে গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আবার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন করে সতর্কতা জোরদার করেছে।চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। পাশাপাশি সময়মতো টিকা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক হলেও দ্রুত টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর