প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ কাঁপাল তামিলনাড়ু, তদন্তে নেমেছে চার বিশেষ দল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) জেলার কাত্তানারপট্টি গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই কারখানার বেশ কয়েকটি অংশ ধসে পড়ে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের সময় কারখানাটিতে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েকটি কক্ষ একসঙ্গে ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান বেশিরভাগ শ্রমিক।দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিবকাশী, সাত্তুর ও বিরুধুনগর এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তারা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর আশপাশের বাড়িঘরের জানালা কেঁপে ওঠে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে।পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে এবং কারখানায় নিরাপত্তাবিধি ঠিকভাবে মানা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চারটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাহ্য রাসায়নিক ব্যবহারের সময় অসতর্কতা থেকেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।একই সঙ্গে শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ তদারকি করতে দুই মন্ত্রী কে কে এস এস আর রামচন্দ্রন ও থাঙ্গাম থেন্নারাসুকে ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-ও পৃথক বার্তায় এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলা বিশেষ করে শিবকাশী এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম বড় আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দীপাবলির মতো উৎসবকে ঘিরে এখানকার কারখানাগুলোতে সারা বছরই বিপুল পরিমাণ আতশবাজি তৈরি হয়। তবে অতীতে একাধিকবার নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে এসব কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে প্রাণহানির ঘটনাও নতুন নয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতশবাজি তৈরির সময় অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাই সামান্য অসতর্কতা বা নিরাপত্তা ঘাটতি বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে নিয়ম মেনে কাজ করা এবং শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও আতশবাজি শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফলাফল সামনে এলে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর