প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে সীমান্ত নগরীতে মানববন্ধন, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
যশোর প্রতিনিধি ||
বেনাপোলে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতালের দাবিতে রোববার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সংকট দীর্ঘদিনের—আর সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ পেল বড় আকারের বিক্ষোভে।রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল বলফিল্ড এলাকায় ‘বেনাপোলবাসী’ ব্যানারে শুরু হয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। ধীরে ধীরে এতে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী, এমনকি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও। একসময় পুরো এলাকা মানুষের ঢলে পরিণত হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষজন জানান, বেনাপোল একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষের এই পৌরসভায় জরুরি চিকিৎসার জন্য যেতে হয় অনেক দূরে। সবচেয়ে কাছের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা যশোর জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় নষ্ট হয়, আর সেই দেরির কারণে অনেক রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়—কখনো কখনো পথেই মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে।মানববন্ধনে মানুষের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে ফুটে ওঠে তীব্র ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব। “রক্ত দেব রাজপথে, তবুও হাসপাতাল গড়ব”, “বেনাপোলে হাসপাতাল চাই”—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে “আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসনের চোখ খুলবে?”—এই প্রশ্নটি বারবার উচ্চারিত হতে থাকে।এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থী রাস্তায় বসে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি, একটি আধুনিক হাসপাতাল শুধু প্রয়োজনই নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার।বিক্ষোভের কারণে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকে, সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা চালালেও ভিড় সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দেখা যায়।এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকলেও আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের কর্মসূচি পালন করেন। তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু না হলে সামনে আরও বড় ও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে তারা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছেন। বিভিন্ন সময় হাসপাতাল নির্মাণের কথা উঠলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।উল্লেখ্য, বেনাপোল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর, যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান আসে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।এছাড়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বড় পৌর এলাকায় একটি মানসম্মত হাসপাতাল থাকা অত্যন্ত জরুরি। না হলে জরুরি চিকিৎসা সেবার অভাবে মৃত্যুহার বাড়তে পারে।
বেনাপোলের মানুষের এই আন্দোলন শুধু একটি হাসপাতালের দাবিতে নয়—এটি তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপদ জীবনের দাবি। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এই দাবির প্রতি সাড়া দেয় এবং বাস্তব পদক্ষেপ নেয় কিনা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর