প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, একদিনেই নতুন শনাক্ত ৯৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম রোগ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪২ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা তৈরি হয়েছে
শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, গত একদিনে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ৮৬ জনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রোগটির বিস্তার আবারও নজরে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৭৮ জনে। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৪০৯ জন। এই সংখ্যা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রোগটি অনেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ হাজার ৭৫১ জন রোগী। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
মৃত্যুর দিক থেকে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জন মারা গেছেন। এছাড়া একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১৭৮ জন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঞ্চলভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে মোট ৯ হাজার ৭৮০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৬ জন। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় রাখা হয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে টিকা না নেওয়া বা সময়মতো টিকা সম্পন্ন না হওয়ার কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়া এবং মৌসুমি পরিবর্তনের সময় রোগের ঝুঁকি বাড়ার কারণে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং ভিড় এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর