প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হজ ফ্লাইট-২০২৬ উদ্বোধন: হাজীদের সঙ্গে কথা বলে শুভযাত্রা কামনা প্রধানমন্ত্রীর
মোঃ হাবিব, নির্বাহী সম্পাদক ||
বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়া যাত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ‘হজ ফ্লাইট-২০২৬’ কার্যক্রম। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরই প্রথম ফ্লাইটে থাকা হাজীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং তাদের জন্য নিরাপদ যাত্রার দোয়া করেন।রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইটে উঠে হাজীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, এর আগে তিনি আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান এবং সেখানে হাজীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, হাজীদের সঙ্গে তিনি আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান।হজ ক্যাম্পে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী একটি মেডিকেল ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে হাজীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হজযাত্রা দীর্ঘ ও শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য হওয়ায় যাত্রীদের জন্য এই ধরনের চিকিৎসা সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এরপর রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনেই মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা করবে ৬টি ফ্লাইট, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স আরও ৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। সৌদি আরবের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর অর্ধেক পরিবহন করবে বাংলাদেশ বিমান। বাকি অর্ধেকের মধ্যে সৌদিয়া ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ যাত্রী বহন করবে।হজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে, তবে সম্ভাব্য তারিখ ২৬ মে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। গত কয়েক বছরে হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে সেবার মান উন্নত করার চেষ্টা করছে সরকার। বিশেষ করে ডিজিটাল নিবন্ধন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে, সৌদি সরকারের নির্ধারিত নতুন হজ রোডম্যাপ অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এতে ভিসা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে আবাসন ও যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই আরও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
এবারের হজ কার্যক্রমের সূচনা বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে হলেও সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করা। সরকার আশাবাদী, নতুন উদ্যোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এবারের হজযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর