প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
তুরস্কে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৮ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯, আহত ১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
তুরস্কের একটি মাধ্যমিক স্কুলে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চালানো বন্দুক হামলায় ৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। ঘটনার পর দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগের ছায়া। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে কাহরামানমারাস শহরের একটি স্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর দুটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার কিছু সময় পর সে নিজের গায়েও গুলি করে আত্মহত্যা করে। এত অল্প বয়সী একজন শিক্ষার্থীর এমন সহিংস ঘটনায় দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবারভিত্তিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো হামলাকারীর বাবার। তার বাবা একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অস্ত্রগুলো কীভাবে শিক্ষার্থীর হাতে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে সানলিউরফা প্রদেশের একটি স্কুলেও হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে এক সাবেক শিক্ষার্থী হামলা চালিয়ে অন্তত ১৬ জনকে আহত করে। ওই হামলাকারীও পরে আত্মহত্যা করে। পরপর দুই দিনের ব্যবধানে স্কুলে এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।তুরস্কে সাধারণত স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারিবারিক অস্ত্র নিরাপত্তা ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের কাছে থাকা বৈধ অস্ত্র নিরাপদভাবে সংরক্ষণ না করলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশোর বয়সে মানসিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেক সময় এমন চরম আচরণ দেখা দিতে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঘটনার পর দেশটির প্রশাসন স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
পরপর দুটি স্কুলে হামলার ঘটনায় তুরস্ক জুড়ে শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নিরাপত্তা বাড়ালেই হবে না—শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবারে অস্ত্র সংরক্ষণের নিয়ম এবং সামাজিক সচেতনতা—সব দিকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর