প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সাবেক পরিবার পরিকল্পনা পরিচালক মির্জা ফারুকের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ অভিনেত্রী বন্যা মির্জার পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী বন্যা মির্জার বাবা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা ফারুক। বুধবার (আজ) সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাট্যকার মাসুম রেজা। এই খবরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ????️
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিজ বাসায় অসুস্থ অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। বর্তমানে জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
মির্জা ফারুক শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। দেশের জন্য তার অবদান পরিবার ও পরিচিত মহলে সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হতো। জীবনের দীর্ঘ একটি সময় তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে অবসরে যান।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মূলত দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একটি বড় প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবেই বিবেচিত হয়। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা ও নিষ্ঠার জন্য সহকর্মীদের কাছেও সম্মানিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মির্জা ফারুকের মেয়ে অভিনেত্রী বন্যা মির্জা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। দূরে অবস্থান করার কারণে পরিবারের জন্য সময়টা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতোমধ্যে অনেক সহকর্মী, নাট্যকর্মী ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন
অভিনেত্রী বন্যা মির্জা দেশের টেলিভিশন নাটকের দর্শকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি মুখ। বিশেষ করে ‘রঙের মানুষ’ ও ‘ভবের হাট’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সে সময় এই ধারাবাহিক নাটকগুলো পারিবারিক বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দর্শকদের ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন।
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে ৯০-এর দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে ধারাবাহিক নাটকের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। সেই সময়কার অনেক নাটকের মতো বন্যা মির্জার অভিনীত নাটকগুলোও দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়, যা তাকে একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
মির্জা ফারুকের মৃত্যুতে তার পরিবার যেমন একজন অভিভাবককে হারাল, তেমনি দেশ হারাল একজন মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজ্ঞ প্রশাসককে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা—তার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সবাই যেন তার জন্য দোয়া করেন এবং তার স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর