প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১০ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৪২৮ জন শিশু। এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে, যেগুলো এখনো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়নি।
একই সময়ে নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ শিশুর মধ্যে ১৫০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। আর ১২৬৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সন্দেহভাজনদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ১৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসে দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
এই সময়ের মধ্যে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন শিশু। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়াই রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা নেয়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—এসব হলো হামের সাধারণ লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের হাম প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের বিনামূল্যে হাম টিকা দেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে টিকা না নেওয়া বা সময়মতো না নেওয়ার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় সচেতনতার অভাব বড় একটি কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোথাও জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো সচেতনতা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর