প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
শাপলা চত্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ কারণে তাকে এই মামলায় আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধু দেশের মানুষ নয়, বিশ্বের মানুষের কাছেও আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হোক বা সাধারণ মানুষ—কেউই বিচারের বাইরে থাকবে না। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও জানান, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।এর আগে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি তুলে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নারীনীতির কিছু বিষয় পরিবর্তনের আহ্বান। ওই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লাখো কওমি আলেম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশকে ঘিরে ওই দিন মতিঝিল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।পরে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চালিয়ে সমাবেশকারীদের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই অভিযানে কতজন নিহত বা আহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে তখন থেকেই নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলও বিষয়টি নিয়ে আলাদা আলাদা মতামত দেয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য গঠিত একটি বিশেষ আদালত। সাধারণত বড় ধরনের সহিংসতা, গণহত্যা বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে এই ট্রাইব্যুনাল বিচার প্রক্রিয়া চালায়। তাই শাপলা চত্বরের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। এই ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আইনি তৎপরতা শুরু হওয়ায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে। তদন্ত শেষ হলে এই মামলায় আরও কারা অভিযুক্ত হতে পারেন, সেটিই এখন সবার নজরে রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর