প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৩০ কার্টন সিগারেট জব্দ, দুই যাত্রী আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করেছে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে দুই যাত্রীর লাগেজ থেকে উদ্ধার হয় ৬৩০ কার্টন সিগারেট ও ৫টি স্মার্টফোন, যার মোট রাজস্বমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে অভিযানটি পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবুধাবি থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৮ ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রীর গতিবিধি আগে থেকেই সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) চট্টগ্রাম শাখার দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কাস্টমস ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স যৌথভাবে অভিযান চালায়। তল্লাশির সময় দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩০ কার্টন ‘মন্ড’ ব্র্যান্ডের সিগারেট এবং ৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।আটক যাত্রীদের পরিচয়ও জানা গেছে। তারা হলেন বাঁশখালীর মোহাম্মদ আরাফাত এবং আমিরাবাদের মোহাম্মদ রায়হান। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।উদ্ধার করা পণ্যের রাজস্ব হিসাবও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিগারেট থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, একটি আইফোন থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং চারটি স্যামসাং ফোন থেকে ৬০ হাজার টাকা—সব মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব দাঁড়িয়েছে। জব্দ করা পণ্যগুলো ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম (ডিএম) মূল্যে বাজেয়াপ্ত করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে।বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি সবসময় থাকে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চলবে।”পটভূমি হিসেবে জানা যায়, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রায়ই এই ধরনের চোরাচালান ঠেকাতে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফ্লাইটগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়, কারণ এসব রুটে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আনার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অতীতে শাহ আমানত বিমানবন্দরেও সোনা, সিগারেট ও ইলেকট্রনিক পণ্য পাচারের একাধিক ঘটনা ধরা পড়েছে।এছাড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলো—সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকানো। এ ধরনের অভিযান শুধু রাজস্ব সুরক্ষাই নয়, বরং দেশের বাজারে অবৈধ পণ্যের বিস্তার রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই অভিযানে বড় ধরনের চোরাচালান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যদিও জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনার চেষ্টা করলে তা সহজে পার পাওয়া যাবে না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর