প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
তেলের দাম বাড়তে পারে যেকোনো সময়! বৈশ্বিক সংকটে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব দিন দিন তীব্র হচ্ছে, আর তার সরাসরি চাপ পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর। এমন পরিস্থিতিতে খুব শিগগিরই জ্বালানি তেলের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কেইপিজেডে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) এক স্কলারশিপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, দেশে এখনো তেলের কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে একই দামে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিগগিরই মূল্য সমন্বয় বা নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশই এই প্রভাবের মুখে পড়েছে। দেশের অধিকাংশ জ্বালানি আমদানি মধ্যপ্রাচ্য থেকে হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।এই সংকট মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। মন্ত্রী জানান, শুধু সরকার নয়—সাধারণ জনগণকেও জ্বালানি ব্যবহারে সচেতন ও সাশ্রয়ী হতে হবে। এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব।তিনি আরও বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা সরকারি তহবিলের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। এভাবে ব্যয় বাড়তে থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রভাব পড়তে পারে। তাই দেশের স্বার্থে এক পর্যায়ে গিয়ে মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, জ্বালানির দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়বে সার, খাদ্যপণ্য এবং সামগ্রিক বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির দাম বাড়ায়নি।অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে রপ্তানি আয় কিছুটা কমলেও ভবিষ্যতে গার্মেন্টস খাত ঘুরে দাঁড়াবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। ব্যাংক ঋণনির্ভর বিনিয়োগের পরিবর্তে পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করতে শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জরুরি। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
সবশেষে স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্জন ধরে রাখতে হলে তাদের ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল বজায় রাখতে হবে—কারণ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর