প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
"জাপানের অনীহা: হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সংশ্লিষ্টতা এড়াতে চায় কিশিদা সরকার"
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে নারাজ জাপান: সামনে আসছে আইনি বাধাটোকিও | ১৫ মার্চ, ২০২৬মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন আহ্বান কার্যত নাকচ করে দিয়েছে জাপান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চাপ থাকলেও টোকিও তার বর্তমান অবস্থানে অনড় রয়েছে, যার মূলে রয়েছে দেশটির কঠোর সামরিক আইন ও সংঘাত এড়ানোর নীতি।জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।ট্রাম্পের আহ্বান ও জাপানের প্রতিক্রিয়াসম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানসহ বিভিন্ন মিত্র দেশকে তাদের নিজস্ব তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর পাহারায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। জাপানের পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানো জাপানের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত।আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতাকোবায়াশি তার বক্তব্যে প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন:কঠোর মানদণ্ড: জাপানের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর শর্তগুলো অত্যন্ত কঠোর।সংবিধানের সীমাবদ্ধতা: জাপানের ‘শান্তিবাদী সংবিধান’ সরাসরি কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শক্তি মোতায়েন করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আইনিভাবে এই সম্ভাবনা একেবারে নাকচ না করলেও, এটি বাস্তবায়ন করা টোকিওর জন্য চরম রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকির বিষয়।ওয়াশিংটনের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েনবিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও জাপান সরাসরি কোনো সামরিক জোটে জড়িয়ে পড়তে চাইছে না। সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে জাপান এখন পর্যন্ত অত্যন্ত রক্ষণশীল ও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানেই অনড় রয়েছে। মূলত নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতেই জাপান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর