প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি যুদ্ধের দোরগোড়ায় বিশ্ব: ইতিহাসের বৃহত্তম তেল সরবরাহ সংকটের ব্যবচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিশ্ব তেলবাজারে ইতিহাসের চরম সরবরাহ সংকট: ‘ফোঁটার মতো ক্ষীণ’ হরমুজ প্রণালির প্রবাহ[ডেস্ক রিপোর্ট] মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব তেলবাজারের ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনা ও ট্যাঙ্কারে উপর্যুপরি হামলার ফলে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।রুদ্ধপ্রায় হরমুজ প্রণালি প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেলের প্রবাহ বর্তমানে প্রায় ‘ফোঁটার মতো ক্ষীণ’ হয়ে এসেছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। আইইএ এই পথটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘ক্রিটিক্যাল অয়েল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।উৎপাদন কমছে ১ কোটি ব্যারেল সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পথ সীমিত থাকায় এবং তেলের রিজার্ভ ট্যাংকগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ফলে বাধ্য হয়ে দেশগুলো দৈনিক অন্তত ১ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে।আইইএ-এর প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টগুলো:সরবরাহ ঘাটতি: চলতি মাসে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে।প্রভাবিত দেশসমূহ: ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরান—এই সাতটি দেশ তাদের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছে।বিকল্পের অভাব: উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি ছাড়া কার্যকর বিকল্প পথ খুবই নগণ্য।সতর্কবার্তা: জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।সমন্বয়ের চেষ্টা আইইএ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদন বাড়িয়ে কিছুটা সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর