প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে ধস, ঘাটতির পাহাড় ৬০ হাজার কোটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা: সাত মাসে ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকাঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হলেও দেশের অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।তিন খাতেই বড় পতনএনবিআরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। আয়ের তিনটি প্রধান খাতেই এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে:আয়কর খাত: সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে এই খাতে। ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।আমদানি শুল্ক: আমদানিতে স্থবিরতার কারণে এই খাতে ঘাটতি ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা।ভ্যাট খাত: উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় ভ্যাট আদায় কম হয়েছে। এ খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।কেন এই ধস?সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে স্থবিরতা ছিল। নতুন বিনিয়োগ না আসা এবং সরকারি প্রকল্পগুলো ধীরগতিতে চলায় শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে। ফলে আমদানি পর্যায়ে সরকার আশানুরূপ শুল্ক পায়নি।অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় (বাসাভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য) কয়েকগুণ বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। উচ্চ সুদের হারের কারণে ঋণের ব্যয় বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনেনি।ব্যবসায়ীদের উদ্বেগবাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু জানান, "ব্যবসা-বাণিজ্যের টার্নওভার না বাড়লে রাজস্ব বাড়বে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। এখন নতুন সরকার করনীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান কীভাবে দেয়, তার ওপরই বিনিয়োগ নির্ভর করছে।"নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জঅর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলেও কোষাগারের এই বিশাল শূন্যতা তাদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে ফেলবে। পুঁজিবাজারে আস্থার অভাব, সংকুচিত কর্মসংস্থান এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা দূর করাই হবে নির্বাচিত সরকারের জন্য প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।সংক্ষেপে মূল চিত্র:মোট ঘাটতি: ৬০,১১৩ কোটি টাকা (জুলাই-জানুয়ারি)মূল্যস্ফীতি: ৮.৫৮% (জানুয়ারি)সংকট: আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক—তিনটি খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যর্থ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর