প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হাজীগঞ্জে যুবদল নেতা মাইওয়ান সেলিমের চাঁদাবাজি ও দখলদারীতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
||
জুলাই আন্দোলনে সফলতা পেয়েছি মুখে বলা সহজ স্বাদ অনুভব করা কঠিন।৫ আগষ্ট স্বৈরাচার পতনের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু নীরব ভূমিকা চাঁদাবাজদের তৎপরতা বেড়ে গেছে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। কচুয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুবের গাড়ি আটকে রেখে এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের এই নেতা । তথ্যসূত্রের খবর ঢাকা বিমানবন্দরে আটক হয়ে জেল হাজতে খবর জানা যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে অভিযোগে আরো জানা যায়, হাজিগঞ্জ পশ্চিম বাজারে জোর করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে হিন্দুদের জমি দখল করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মাদকসেবী জনৈক হীরা নামের ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেন।চোরাই পথে ভারত থেকে নিয়ে আসা ও বাংলাদেশে অননুমোদিত ৬৫০ সিসি রয়াল এনফিল্ড মোটরসাইকেল বৈধ কোন কাগজপত্র ছাড়া ব্যবহার করছেন বলে জানা যায় যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮.৫ লক্ষ টাকা।তার ক্ষমতা প্রদর্শনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র/পিস্তল ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখান মর্মে জানা যায়।এক অভিযোগকারী বলেন, দুই পক্ষের সম্পত্তির মামলা চলমান অবস্থায় হাজিগঞ্জ বাজারের আমিন রোডের একটি বানিজ্যকি জমি দখল করে নিজের নামে লিখে নেন, অথচ এই জমি একটি স্বনামধন্য (বনফুল) ক্লাবের জায়গা বলে জানা যায়।রয়েল মার্কেট এর দোকান নিয়ে ২ পক্ষের বিবাদ চলা অবস্থায় এক পক্ষকে দোকান জোরপূর্বক বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।সে চিহ্নিত ও স্বীকৃত মাদকসেবী। নিজের জন্য মাদক/ইয়াবা সরবরাহ নিশ্চিতকরণের শর্তে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্বিঘ্নে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেন বলে লোকমুখে শোনা যায়, নামকরা ইয়াবা ব্যবসায়ী শওকত তার মধ্যে অন্যতম।।সে নিজেকে বি এন পির ত্যাগী নেতা দাবী করে টোরাগড় দক্ষিণ পাড়ার কিছু উশৃঙ্খল বখাটে (ছোট রাজন, আরিয়ান সোহেল ওরফে টোকাই সোহেল , আমান)ছেলেদের দিয়ে সকল ধরনের কাজে অন্য মানুষকে ভয় ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকে, যেগুলোর অভিযোগ থানায় আছে এবং ইতোমধ্যে সোহেল কিশোর গ্যাং এর নেতা হিসেবে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে জানা যায়।এসব দখলে তিনি তার লালিত বাহিনী হাজীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ছাত্রদলের আহবায়ক ফয়সাল হোসেন ও তার ছোট ভাই পৌর বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল হাসানের নাম উঠে আসে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে জানা যায়, তারা দুই ভাই একটি মুদি দোকানে পেশি শক্তি ব্যবহার করে দোকানের কর্মচারীকে মারধর এবং মালিককে দোকান ছেড়ে দেয়ার হুমকিও প্রদান করে। নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রদলের নাম ভাঙানো কিছু ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এলাকায় গড়ে তুলেছেন ত্রাসের রাজত্ব, সরকারি রেলওয়ের লিজকৃত পুকুরে ইজারা নিয়ে ঝামেলায় ভুক্তভুগি আমেনা বেগম নামে এক মহিলার পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায় হাসান হুসেন নামে এই দুই ভাই। পরে, আমেনা বেগম আইনের শরণাপন্ন তারা আমেনা বেগমের ছেলেদেরকে মেরেফেলার হুমকী এবং ছেলেদেরকে ছাত্রলীগের তকমা লাগিয়ে বিভিন্ন রাজজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদান করে তারা। এছাড়াও ৫ ই আগস্টের পর পল্টন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল আমিনকে নিজেদের শেলটারে বাড়িতে আশ্রয় দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায় সেলিম গং এর এই লালিত ভাইদ্বয়ের বিরুদ্ধে।এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে এলাকার স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে চাইলে সেলিমের ভয়ে কেউই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে রাজি হয় না। পরে গোপন ক্যামেরায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মারফত জানা যায়, মাই ওয়ান সেলিম হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী দোষর জনৈক হীরা নামক এক ব্যক্তির জমির সাথে থাকা হিন্দুদের বেশ কয়েক শতক জমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দখল করিয়ে দেন। এছাড়াও চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যে প্রতিটি জায়গায় তার এবং তার গ্যাং দের হাত রয়েছে এমনটাই এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।শুধু তাই নয়, নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত দাবী করে বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করেন।নিজের দোকান ভাঙচুর মামলার ভয় দেখিয়েও আসামিদের থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এলাকায় মাই ওয়ান সেলিম ও হাজী ইমাম হোসেন এর আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে মারামারির এক পর্যায়ে একটি নিশ্পাপ ছেলে নিহত হয় এবং এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সে সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ নিয়ে বি এন পির সাবেক আহ্বায়ক হাজী ইমাম হোসেন কে বহিষ্কার করা হলেও এই সেলিম এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।জানা যায়, তার বিরুদ্ধে থানায় ও সেনা ক্যাম্পে পুর্বেও অনেক অভিযোগ রয়েছে।আমরা সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, চাঁদপুর-৫ ধানেরশীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইন্জিনিয়ার মমিনুল হক সবরকম চাঁদাবাজ দখলবাজদের বিরুদ্ধে বারবার বিভিন্ন প্রোগ্রামে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।তারপরেও কিভাবে এই সেলিম ও হাসান হোসেনরা দখল বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছেন ?জনমনে প্রশ্ন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মত বিএনপি তে কেউ নেই ??এত অভিযোগ থাকার পরেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা না নেওয়ায় তার এই সব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে পুরো উপজেলার মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর