প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি-র্যাবের যৌথ অভিযান, নেশাজাতীয় সিরাপসহ আটক ২
মোঃ সেলিম রেজা তাজ, স্টাফ রিপোর্টার ||
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বিজিবি ও র্যাব। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পরিচালিত এ অভিযানে ১১৮ বোতল উইনসেরেক্স কফ সিরাপ ও ৯৯ বোতল এসকাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানযশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী ঘিবা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে র্যাব-৬-এর সদস্যরাও অংশ নেন।অভিযান চলাকালে বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের একটি এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নেশাজাতীয় হিসেবে পরিচিত বিপুল পরিমাণ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।আটক দুজনের পরিচয়আটক ব্যক্তিরা হলেন— ধান্যখোলা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (৩৫) এবং বেনাপোল পুড়াবাড়ী নারায়ণপুর এলাকার শফিকুলের ছেলে মিনাজুল (৪৫)।তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পরে উদ্ধার হওয়া সিরাপ ও আটক ব্যক্তিদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।চোরাচালানবিরোধী অভিযানে আরও পণ্য জব্দএকই দিনে সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্যও জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির তথ্যমতে, বেনাপোল বিওপি ও আইসিপির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, পোশাক সামগ্রী, জিরা, ফুসকা, চকলেট ও কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য আটক করেন।জব্দ হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।সীমান্তে বাড়ছে নজরদারিসীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথ ব্যবহার করে মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা চলছে। এসব কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।স্থানীয়দের উদ্বেগস্থানীয়দের একাংশ বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্য ও চোরাচালানের ঘটনা সামাজিকভাবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান নয়, সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে চোরাচালান চক্র নতুন সদস্য সংগ্রহের সুযোগ পেতে পারে।অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে বিজিবিবিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে তাদের আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি।বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া পণ্যের উৎস ও সম্ভাব্য পাচারচক্র নিয়ে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর