প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
২০ টাকার বকেয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তির পর বৃদ্ধের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় মাত্র ২০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির ঘটনায় কাইয়ুম উল্ল্যা (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের হাজিগঞ্জ বাজারে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিহত কাইয়ুম উল্ল্যা পশ্চিম ভেলাবাড়ি নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, বাজারে একটি কলার দোকানে বকেয়া টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বাজারে পুরোনো বকেয়া নিয়ে শুরু হয় তর্কস্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় কলা বিক্রেতা মজিদুল ইসলামের দোকান থেকে কলা কিনেছিলেন কাইয়ুম উল্ল্যা। সে সময় ২০ টাকা বাকি ছিল বলে দাবি করেন দোকানদার। বুধবার বিকেলে হাজিগঞ্জ বাজারে গেলে মজিদুল তার কাছে ওই টাকা চান।এ সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিষয়টি সাধারণ তর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে বৃদ্ধ কাইয়ুম উল্ল্যা মাটিতে পড়ে যান। উপস্থিত লোকজন তাকে উঠানোর চেষ্টা করলেও তখন আর সাড়া পাওয়া যায়নি।ঘটনার পর বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিষয়টিকে “তুচ্ছ কারণে বড় দুর্ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় আতঙ্কের মুহূর্তহাজিগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হঠাৎ উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলের দিকে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, দুইজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধ ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ ঝগড়া। পরে দেখি লোকটা পড়ে গেছেন। এরপর সবাই দৌড়ে যায়।”আরেকজন বলেন, “এত সামান্য টাকার বিষয় থেকে এমন ঘটনা হবে কেউ ভাবেনি। বাজারের মানুষজনও হতভম্ব হয়ে গেছে।”তবে ঘটনার সময় ঠিক কী হয়েছিল, কে আগে ধাক্কা দিয়েছেন বা ধস্তাধস্তির মাত্রা কতটা ছিল—এসব বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।হৃদরোগে মৃত্যু কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশআদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধস্তাধস্তির সময় কাইয়ুম উল্ল্যা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।তিনি বলেন, “পাওনা টাকা নিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনায় ওই বৃদ্ধ মারা গেছেন বলে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ছোট বিরোধ কীভাবে বড় বিপদের কারণ হচ্ছেস্থানীয়রা বলছেন, সামান্য অর্থনৈতিক বিরোধ থেকে এলাকায় মাঝেমধ্যেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাজার বা লেনদেনকেন্দ্রিক বিরোধ দ্রুত ব্যক্তিগত রাগে রূপ নিচ্ছে। ফলে ছোট ঘটনা থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় পারিবারিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে মানুষের সহনশীলতা কমে যাচ্ছে। আগে যেসব বিষয় কথাবার্তায় মিটে যেত, এখন তা সহজেই সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।এই ঘটনাটিও সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। মাত্র ২০ টাকার পাওনাকে কেন্দ্র করে একজন বৃদ্ধের প্রাণহানির ঘটনা স্থানীয় মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।পরিবারে শোকের ছায়াকাইয়ুম উল্ল্যার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে শোকের পরিবেশ নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন। স্বজনদের দাবি, এত ছোট একটি বিষয় নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত ছিল না।স্থানীয় কয়েকজন জানান, কাইয়ুম উল্ল্যা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে।তবে অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম এসেছে, সেই কলা বিক্রেতা মজিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তদন্ত শেষে মিলতে পারে প্রকৃত চিত্রপুলিশ বলছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি যাচাই করা হবে। বর্তমানে এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে ঘটনার পর হাজিগঞ্জ বাজারে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সামান্য বিরোধ যেন আর কোনো পরিবারকে এমন শোকের মুখে না ঠেলে দেয়, সে বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর