প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
ঘরে বসেই ডাক জীবনবিমার কিস্তি পরিশোধ, নগদে মিলছে নতুন সুবিধা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ডাক জীবনবিমার গ্রাহকদের জন্য চালু হলো নতুন ডিজিটাল সুবিধা। এখন থেকে প্রিমিয়াম বা কিস্তি জমা দিতে আর ডাকঘরে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। মোবাইল আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকেরা। এ নিয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ও নগদের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।গত বুধবার রাজধানীর ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার পথও প্রশস্ত হবে।ডাকঘরের বদলে এখন মোবাইলেই প্রিমিয়াম পরিশোধচুক্তির আওতায় ডাক জীবনবিমার সব ধরনের পলিসির কিস্তি এখন নগদের মাধ্যমে দেওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে আজীবন বিমা, মেয়াদি বিমা, নির্দিষ্ট বিমা এবং বিবাহবিমা। এত দিন এসব বিমার কিস্তি জমা দিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাকঘরে উপস্থিত হতে হতো গ্রাহকদের। ফলে দূরবর্তী এলাকার গ্রাহকদের জন্য বিষয়টি অনেক সময় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়াত।এখন থেকে নগদ অ্যাপ ব্যবহার করেই কিস্তি পরিশোধ করা যাবে। এজন্য গ্রাহককে অ্যাপের ‘বিল পে’ অপশনে গিয়ে ‘ডাক জীবনবিমা’ বা ‘PLI’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর পলিসি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহজেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে।পেমেন্ট সফল হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের মোবাইলে ডিজিটাল রিসিট ও কনফারমেশন মেসেজ পৌঁছে যাবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেটিই লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।প্রায় দুই লাখ গ্রাহক পাবেন সরাসরি সুবিধাডাক জীবনবিমা সেবার আওতায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখ গ্রাহক রয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এই বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের অনেকেই নিয়মিত কিস্তি জমা দিতে গিয়ে সময় ও যাতায়াত সমস্যায় পড়তেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য ডাকঘরে গিয়ে কিস্তি দেওয়া ছিল সময়সাপেক্ষ একটি কাজ।সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই সেবা চালু হওয়ায় এখন যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে সেবার গ্রহণযোগ্যতাও বাড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও সরকারি অনেক সেবা এখনো পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক হয়নি। ফলে ডাক জীবনবিমার মতো পুরোনো একটি সরকারি সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।চুক্তি স্বাক্ষরে উপস্থিত ছিলেন যাঁরাচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল, ঢাকা) মোহা. আবদুল হান্নান এবং অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার (পশ্চিমাঞ্চল, রংপুর) প্রদীপ কুমার। নগদের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রিমিয়াম পরিশোধের সুযোগ চালু হওয়ায় গ্রাহকেরা আরও দ্রুত ও সহজ সেবা পাবেন। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের সেবাগুলোকে আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে যাবে।অন্যদিকে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নতুন এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে এবং মূল্যবান সময় বাঁচবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও সরকারি সেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য করতে কাজ করবে নগদ।ডিজিটাল সেবার প্রসারে নতুন ধাপদেশে সরকারি বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে অনলাইনভিত্তিক হচ্ছে। ব্যাংকিং, বিল পরিশোধ, টিকিট কেনাসহ নানা কাজে মানুষ এখন মোবাইল অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সেই ধারাবাহিকতায় ডাক জীবনবিমার কিস্তি পরিশোধেও ডিজিটাল পদ্ধতি যুক্ত হওয়াকে অনেকেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা কার্যকর রাখতে নিরাপত্তা ও গ্রাহক সহায়তা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনলাইন লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়বেডাক জীবনবিমার গ্রাহকদের বড় একটি অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাঁদের অনেকেই নিয়মিত ডাকঘরে গিয়ে কিস্তি জমা দিতে সময় ও খরচের চাপে পড়তেন। এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই কিস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই শ্রেণির মানুষ সরাসরি সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।একই সঙ্গে এই উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়াতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সেবার ধীরগতি ও জটিলতা নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবা সম্প্রসারণ হলে সেই ধারণা কিছুটা বদলাতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সামনে আরও ডিজিটাল সেবার ইঙ্গিতঅনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ডাক বিভাগের আরও কিছু সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা—সরকারি সেবাগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবেই এ ধরনের উদ্যোগ বাড়বে।
বর্তমানে নতুন এই সেবা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে কী ধরনের সাড়া পাওয়া যায়, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর