প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ৬০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার, পুলিশের অভিযানে পাকা সড়কে আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পৃথক এক অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এবং এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন।পাকা সড়কে হঠাৎ অভিযান, দুইজন আটকপুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে লৌহজং থানার এসআই (নিঃ) প্রবীর সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় স্থানীয় একটি বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর অবস্থান করা দুই ব্যক্তিকে সন্দেহের ভিত্তিতে থামানো হয় এবং পরে তল্লাশি চালানো হয়।তল্লাশির সময় তাদের দেহ ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের সময় কোনো ধরনের বড় সংঘর্ষ বা উত্তেজনার ঘটনা ঘটেনি। পুরো অভিযানটি দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়।কারা গ্রেফতার হলো: দুইজনের পরিচয়গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—
মো. মাকসুদুর রহমান (৩৮), বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার ওটরা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ফকিরের ছেলে
মো. তামিম ফকির (২৫), একই এলাকার আব্দুল ছালাম ফকিরের ছেলে
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় যাতায়াত করছিলেন। তবে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই কিছু সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করছেন এলাকাবাসীর একটি অংশ।তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ও পুলিশের বক্তব্যলৌহজং থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক মাকসুদুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ পিস এবং তামিম ফকিরের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মোট ৬০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে মাদকদ্রব্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবা কীভাবে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এটি একটি রুটিন অভিযান ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা পরিবহন বা ছোট পর্যায়ের মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া: “দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঝুঁকি বাড়ে”ঘটনাস্থল গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাঝেমধ্যে অচেনা মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সময় কিছু সন্দেহজনক চলাফেরা লক্ষ্য করা যায় বলে তারা দাবি করেন।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা চাই পুলিশ নিয়মিত নজরদারি করুক। কারণ মাদক শুধু একজন মানুষকে না, পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। আজকে যে দুজন ধরা পড়েছে, তারা হয়তো ছোট অংশ, কিন্তু এর পেছনে বড় নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।”তবে কিছু বাসিন্দা আবার মনে করেন, শুধুমাত্র গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়, বরং মূল উৎস খুঁজে বের করাও জরুরি।পুলিশের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপলৌহজং থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হতে পারে, যাতে মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা যায়।পুলিশের একটি সূত্র বলছে, “মাদক শুধু একজনের কাজ নয়। এর পেছনে সাধারণত একটি চেইন থাকে। আমরা সেই চেইন ভাঙার চেষ্টা করছি।”এছাড়া আশপাশের এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।সামাজিক প্রভাব: মাদক কীভাবে তরুণ সমাজকে টেনে নিচ্ছেএই ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় নয়, বরং সমাজের গভীর একটি সংকটের প্রতিফলনও বটে। বিশেষ করে ইয়াবার মতো মাদক তরুণ সমাজকে দ্রুত আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা পরিবার ও সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে মাদক ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো সহজ প্রাপ্যতা এবং সীমিত সামাজিক সচেতনতা। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চাপ এবং বেকারত্বও তরুণদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে।স্থানীয় এক শিক্ষাবিদ মনে করেন, “শুধু পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়। স্কুল, পরিবার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। না হলে এই সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে যাবে।”উপসংহার: তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষামুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ৬০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনের গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পুলিশ এটিকে একটি প্রাথমিক সফল অভিযান হিসেবে দেখছে, তবে এর পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত আছে কি না তা এখনো তদন্তাধীন।বর্তমানে আটক দুইজন থানায় রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি “অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে” বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর