প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
"স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে রওনা দিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: ফলোআপ চিকিৎসায় লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা".
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ও ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। শনিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের পথে রওনা হন। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উপস্থিতি দেখা যায়। বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।লন্ডনে ফলোআপ চিকিৎসা, বিশেষায়িত হাসপাতালে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষারাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলোআপ চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তার হার্টে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। সেই সময় থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলোআপ ও পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। এই ধারাবাহিক চিকিৎসার অংশ হিসেবেই এবার যুক্তরাজ্য সফর।চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিদেশে চিকিৎসা সফর সবসময়ই রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।সফরসঙ্গী কারা ছিলেন, বিমানবন্দরে কূটনৈতিক উপস্থিতিরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সফর করছেন তার সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সফরে রয়েছেন।বিমানবন্দরে বিদায়ের সময় কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ হাইকমিশনার Sarah Cooke এবং ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।রাষ্ট্রপতির এই বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থায় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।২০২৩ সালের হার্ট সার্জারির পর নিয়মিত ফলোআপরাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে হার্টের বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। সেই সময় তার চিকিৎসা আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।তারপর থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলোআপ চিকিৎসার মাধ্যমে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন ফলোআপ চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদে রোগীর সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট সার্জারির পর রোগীদের জন্য নিয়মিত চেকআপ অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে।রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনারাষ্ট্রপতির এই সফর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও দায়িত্বের সঙ্গেও যুক্ত। কারণ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।এ বিষয়ে প্রশাসনিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হবে। তবে তার শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনা করেন এবং তার চিকিৎসা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।বাংলাদেশ থেকে লন্ডন: চিকিৎসা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক সংযোগরাষ্ট্রপতির যুক্তরাজ্য সফর আবারও প্রমাণ করে যে জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি রোগীদের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা রয়েছে। বিশেষ করে হৃদরোগ বা জটিল সার্জারির পর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য উন্নত হাসপাতালগুলোকে বেছে নেওয়া হয়।লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে জটিল রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করা হয়।সামাজিক প্রভাব: রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাস্থ্য ও জনআস্থার প্রশ্নরাষ্ট্রপ্রধানের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়। একদিকে এটি উচ্চমানের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নির্দেশ করে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এটি একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে আসে।জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি দেশে আরও উন্নত কার্ডিয়াক কেয়ার ও ফলোআপ সুবিধা শক্তিশালী করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।বর্তমান অবস্থা ও ফেরার সময়সূচিসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো সফরটি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনা করে সরকারের বিভিন্ন মহল ইতোমধ্যে শুভেচ্ছা ও দোয়া প্রকাশ করেছে।উপসংহার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের যুক্তরাজ্য সফর মূলত একটি পূর্বনির্ধারিত ফলোআপ চিকিৎসা কার্যক্রম। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এই ধরনের স্বাস্থ্য সফর সবসময়ই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করে। তার দ্রুত সুস্থতা ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনই এখন সবার প্রত্যাশা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর