প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু: হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু ও আক্রান্তের চিত্রস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৭ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হাম রোগে হয়েছে বলে জানানো হয়। বাকি ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, যেগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৪ জন রোগী হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বেশি এবং এটি পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে বাড়ছে চাপগত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে। এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:
নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত: ৬,০৯৯ জন
উপসর্গসহ আক্রান্ত: ৪৪,২৬০ জন
মোট হাসপাতালে ভর্তি: ৩০,৮৮৫ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন: ২৭,২২৩ জন
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও নতুন সংক্রমণের হার এখনও উদ্বেগজনক।মাঠপর্যায়ে কী বলছেন চিকিৎসকরারাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত কয়েক দিনে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র্যাশ এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।”আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব ও টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতির কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অভিভাবকদের উদ্বেগ ও বাস্তবতাহাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক বলেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর। পরে শরীরে দানা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু তখন অবস্থার অবনতি হয়ে গেছে।”আরেকজন অভিভাবকের দাবি, অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।কেন বাড়ছে হাম সংক্রমণ?স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কয়েকটি কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে:১. টিকাদানের ঘাটতি:
অনেক শিশু এখনো নিয়মিত টিকা কর্মসূচির আওতায় আসেনি। ফলে তারা সহজেই সংক্রমিত হচ্ছে।২. জনসচেতনতার অভাব:
হামের প্রাথমিক উপসর্গকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না, যার ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ে।৩. স্বাস্থ্যসেবায় বিলম্ব:
প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দেরি হলে জটিলতা বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।প্রশাসনের করণীয় ও বর্তমান উদ্যোগস্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করেছে। বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।তবে কিছু এলাকায় চিকিৎসা সামগ্রী ও জনবল সংকটের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাববিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে এই সংক্রমণ আরও বড় আকার নিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।কী করা জরুরিপরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন:
নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা
শিশুদের জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া
গণসচেতনতা বাড়ানো
গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা
উপসংহার
হাম নতুন কোনো রোগ নয়, কিন্তু অবহেলা ও সচেতনতার ঘাটতি এটিকে আবারও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর