প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায়, যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যঘেরা ঘটনায় উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইন্ট্রো:
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আগামী ৯ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রবাসে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবার, স্বজন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি সম্পন্নওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। এরপর সেখান থেকে সংযোগ ফ্লাইটে ৯ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করছে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এছাড়া ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।টাম্পায় জানাজা, প্রবাসীদের অংশগ্রহণআজ (৬ মে) ফ্লোরিডার টাম্পা শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেবেন।স্থানীয় এক প্রবাসী বাংলাদেশি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন,
“আমরা সবাই ভীষণভাবে মর্মাহত। এমন ঘটনা প্রবাসে আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। জানাজায় অনেকেই উপস্থিত থাকবেন, এটি আমাদের সম্মিলিত শোক প্রকাশের একটি অংশ।”নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধার: কী ঘটেছিল?ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ এপ্রিল। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী—নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) এবং জামিল আহমেদ লিমন (২৭)—নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান।এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে আটক করা হয়।হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি ব্যাগের ভেতর জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়েও তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।রহস্য ও আতঙ্ক: কমিউনিটিতে উদ্বেগএই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর এমন রহস্যজনক নিখোঁজ এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।একজন শিক্ষার্থী জানান,
“আমরা সাধারণত ক্যাম্পাস ও আশপাশকে নিরাপদ ভাবি। কিন্তু এই ঘটনার পর অনেকেই আতঙ্কিত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চাপে আছে।”পরিবারের শোক, দেশে অপেক্ষাবাংলাদেশে বৃষ্টির পরিবার মরদেহ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।পরিবারের এক ঘনিষ্ঠজন বলেন,
“আমরা চাই, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসুক। শুধু মরদেহ ফেরত এলেই দায়িত্ব শেষ নয়।”তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনের ভূমিকাযুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ চলছে।এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দূতাবাস ও কনস্যুলেট প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন আলোচনাএই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং বাসস্থান ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।একজন শিক্ষা বিশ্লেষক বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা। শুধু একাডেমিক নয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”উপসংহার
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। কিন্তু এই ঘটনা যে গভীর প্রশ্ন রেখে গেছে, তার উত্তর এখনো অমীমাংসিত। পরিবার, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা—ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন হোক এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর