প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
টেকনাফে মাছভর্তি ব্যাগে ৩০ হাজার ইয়াবা, বিজিবির অভিযানে আটক ১
মোঃ সেলিম রেজা তাজ, স্টাফ রিপোর্টার ||
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে অভিনব কৌশলে পাচারের চেষ্টা করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মাছভর্তি ব্যাগের ভেতরে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রায় ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। এ ঘটনায় এক মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানবিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে বিকেলে Teknaf Upazila ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ জালিয়াপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয় আভিযানিক দল। সীমান্তে মাদক পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলো নজরদারিতে রেখে এই অভিযান চালানো হয়।জেলের ছদ্মবেশে সন্দেহজনক গতিবিধিসন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলের ছদ্মবেশে দুই ব্যক্তি একটি মাছভর্তি ব্যাগ নিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করছিলেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা থামার সংকেত দেন।তবে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। অপরজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।মাছের ব্যাগে লুকানো ছিল ৩০ হাজার ইয়াবাআটক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা মাছভর্তি ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।আটক ব্যক্তির পরিচয়আটক ব্যক্তির নাম কোরবান আলী (২০)। তার পিতা মৃত রমজান আলী। তিনি Teknaf Upazila-এর জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।বিজিবির বক্তব্য২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আভিযানিক দলের দ্রুত ও কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি চলবে।থানায় হস্তান্তর ও পরবর্তী ব্যবস্থাআটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত ইয়াবা পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।সীমান্তে মাদক চোরাচালানের নতুন কৌশলসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানকারীরা এখন নানা ধরনের অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে। কখনো মাছ, কখনো পণ্যবাহী ব্যাগ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর আড়ালে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে নজরদারি বাড়লেও চোরাকারবারিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াস্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চলমান থাকলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।উপসংহারটেকনাফে মাছভর্তি ব্যাগে ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে সীমান্তে মাদক চোরাচালানকারীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে বিজিবির দ্রুত ও কৌশলগত অভিযানে বড় ধরনের একটি চালান আটক হওয়ায় সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর