প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
ভোলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার
খিলক্ষেত প্রতিনিধি ||
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে ভোলায় পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান জোরদার হয়েছে। পৃথক দুই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পরিচালিত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।০২ মে ২০২৬ তারিখে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার অধীনে পৃথক দুই অভিযানে ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর দিকনির্দেশনায় এবং বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে মোঃ জাকির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের।এ সময় জাকির হোসেন (৩৮) ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫)কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকেই এই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।পৃথক অভিযানে আরও এক যুবক আটকএকই দিনে বিকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে বোরহানউদ্দিন থানার অধীন ল্যাংড়ার পুল থেকে লেবুকাটা সড়ক এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়।সেখানে মোঃ শামিম (১৯) নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।আইনি ব্যবস্থা গ্রহণপুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।”এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়াস্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদকবিরোধী এই ধরনের অভিযান এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “মাদকের কারণে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুলিশের এই অভিযান নিয়মিত হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”আরেকজন বলেন, “যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এমন পদক্ষেপ খুব প্রয়োজন।”প্রভাব ও বিশ্লেষণ: মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ববিশ্লেষকদের মতে, ভোলা মাদকবিরোধী অভিযান, ইয়াবা উদ্ধার এবং গ্রেফতারের মতো ঘটনাগুলো মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা নির্দেশ করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক অভিযান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ব্যালান্সড রিপোর্টিংঅভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উপসংহারভোলার বোরহানউদ্দিনে পরিচালিত এই অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। তবে এমন ধারাবাহিক উদ্যোগই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর