দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ভারতে কারিনার লিভার প্রতিস্থাপনে দেরি, চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ফুসফুসের সংক্রমণ

ভারতে কারিনার লিভার প্রতিস্থাপনে দেরি, চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ফুসফুসের সংক্রমণ

জেবার অভিযোগে থেমে গেল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তি, সেন্সর সনদ স্থগিত

ভণ্ড হুজুর’ মন্তব্যে নতুন আলোচনা: কাকে ইঙ্গিত করলেন মারিয়া মিম?

অ্যাকশন হিরো থেকে গায়ক শাকিব, ‘রকস্টার’ নিয়ে চরকির বড় ঘোষণা

২০০ পর্বের মাইলফলকে দীপ্ত টিভির ‘খুশবু’

সাবিনা ইয়াসমিনের গানে জমে উঠল গুলশান সোসাইটির সন্ধ্যা, নতুন কমিটির বড় পরিকল্পনার ঘোষণা

রাহুল গান্ধীকে বিয়ের প্রস্তাব? ভাইরাল গুঞ্জনে তীব্র প্রতিক্রিয়া কঙ্গনার

ভক্তদের আরও কাছে টানতে ইউটিউবে জয়া আহসান, পর্দার আড়ালের গল্প এবার সবার জন্য

ভারতে কারিনার লিভার প্রতিস্থাপনে দেরি, চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ফুসফুসের সংক্রমণ

ভারতে কারিনার লিভার প্রতিস্থাপনে দেরি, চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ফুসফুসের সংক্রমণ
ভারতের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। -ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার এখনও ভারতের হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীর বর্তমানে লিভার প্রতিস্থাপনের মতো বড় অস্ত্রোপচার নেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই আপাতত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ভেলোরে অবস্থিত Christian Medical College Vellore হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারিনার ফুসফুসে জটিল সংক্রমণ এবং লিভারে ভাইরাল সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অস্ত্রোপচারের আগে তাকে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল করা সবচেয়ে জরুরি।

কেন পিছিয়ে যাচ্ছে লিভার প্রতিস্থাপন?

কারিনার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে একাধিক জটিলতা একসঙ্গে কাজ করছে। ফুসফুসে তরল ও কফ জমে থাকায় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লিভারে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


চেন্নাই থেকে কারিনার মা লোপা কায়সার জানান, চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শরীরের অক্সিজেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়া। কারণ বর্তমান অবস্থায় বড় অস্ত্রোপচার করলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা মনে করছেন আগে ফুসফুসের অবস্থা কিছুটা উন্নতি না হলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা নিরাপদ হবে না। এ কারণেই আপাতত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ভারত নেওয়ার পথও ছিল কঠিন

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভারত নেওয়ার পুরো যাত্রাপথটিই কারিনার জন্য ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে প্রায় ৬০ শতাংশ অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তবে ভারতে পৌঁছানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেই সাপোর্ট বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka থেকে স্থানান্তরের সময় তার রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায় বলে জানা গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ যাত্রা এবং গুরুতর শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার শরীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে। ফলে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিবার পাশে থাকলেও বাড়ছে উৎকণ্ঠা

চেন্নাইয়ে বর্তমানে কারিনার সঙ্গে তার মা এবং দুই ভাই অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে পরিবারের মধ্য থেকেই ডোনার নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ছোট ভাই সাদাত হামিদ উপযুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। কারণ তাদের রক্তের গ্রুপের মিল রয়েছে বলে জানা গেছে।


তবে চিকিৎসকরা এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির পরই পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবস্থার অবনতি

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে রাত থেকে লিভারজনিত জটিলতার কারণে কারিনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১২ মে রাতে Hazrat Shahjalal International Airport থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের একটি সূত্র বলছে, গুরুতর লিভার রোগের সঙ্গে ফুসফুসের সংক্রমণ যুক্ত হলে রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে যেতে পারে। সে কারণেই এখন প্রতিটি চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ ও প্রার্থনা

কারিনার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অনুসারীরা। অনেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। দেশের বিনোদন অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখও তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর লিভার জটিলতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এখন যা দেখছেন চিকিৎসকরা

বর্তমানে চিকিৎসকদের প্রধান নজর রয়েছে তিনটি বিষয়ে—ফুসফুসের সংক্রমণ কমানো, অক্সিজেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং লিভারের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে তবেই লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


পরিবারের পক্ষ থেকেও সবাইকে কারিনার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিষয় : লিভার প্রতিস্থাপন, চেন্নাই চিকিৎসা, ভেলোর সিএমসি হাসপাতাল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


ভারতে কারিনার লিভার প্রতিস্থাপনে দেরি, চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ফুসফুসের সংক্রমণ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার এখনও ভারতের হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীর বর্তমানে লিভার প্রতিস্থাপনের মতো বড় অস্ত্রোপচার নেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই আপাতত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ভেলোরে অবস্থিত Christian Medical College Vellore হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারিনার ফুসফুসে জটিল সংক্রমণ এবং লিভারে ভাইরাল সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অস্ত্রোপচারের আগে তাকে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল করা সবচেয়ে জরুরি।

কেন পিছিয়ে যাচ্ছে লিভার প্রতিস্থাপন?

কারিনার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে একাধিক জটিলতা একসঙ্গে কাজ করছে। ফুসফুসে তরল ও কফ জমে থাকায় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লিভারে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


চেন্নাই থেকে কারিনার মা লোপা কায়সার জানান, চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শরীরের অক্সিজেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়া। কারণ বর্তমান অবস্থায় বড় অস্ত্রোপচার করলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা মনে করছেন আগে ফুসফুসের অবস্থা কিছুটা উন্নতি না হলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা নিরাপদ হবে না। এ কারণেই আপাতত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ভারত নেওয়ার পথও ছিল কঠিন

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভারত নেওয়ার পুরো যাত্রাপথটিই কারিনার জন্য ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে প্রায় ৬০ শতাংশ অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তবে ভারতে পৌঁছানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেই সাপোর্ট বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka থেকে স্থানান্তরের সময় তার রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায় বলে জানা গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ যাত্রা এবং গুরুতর শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার শরীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে। ফলে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিবার পাশে থাকলেও বাড়ছে উৎকণ্ঠা

চেন্নাইয়ে বর্তমানে কারিনার সঙ্গে তার মা এবং দুই ভাই অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে পরিবারের মধ্য থেকেই ডোনার নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ছোট ভাই সাদাত হামিদ উপযুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। কারণ তাদের রক্তের গ্রুপের মিল রয়েছে বলে জানা গেছে।


তবে চিকিৎসকরা এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির পরই পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবস্থার অবনতি

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে রাত থেকে লিভারজনিত জটিলতার কারণে কারিনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১২ মে রাতে Hazrat Shahjalal International Airport থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের একটি সূত্র বলছে, গুরুতর লিভার রোগের সঙ্গে ফুসফুসের সংক্রমণ যুক্ত হলে রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে যেতে পারে। সে কারণেই এখন প্রতিটি চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ ও প্রার্থনা

কারিনার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অনুসারীরা। অনেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। দেশের বিনোদন অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখও তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর লিভার জটিলতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এখন যা দেখছেন চিকিৎসকরা

বর্তমানে চিকিৎসকদের প্রধান নজর রয়েছে তিনটি বিষয়ে—ফুসফুসের সংক্রমণ কমানো, অক্সিজেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং লিভারের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে তবেই লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


পরিবারের পক্ষ থেকেও সবাইকে কারিনার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর