দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
  • photo-stories ফটো স্টোরি

জাতীয়

ভিডিও সব ভিডিও

কোন ভিডিও নেই !

আর্কাইভআর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম
পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জনগণের স্বার্থে চাঁদাবাজি মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো: আলহাজ্ব ফজলুল হক

কোতোয়ালি থানায় নারী নির্যাতন, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

সব লড়াইয়ের অবসান, চলে গেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বেগম জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

বনানীতে শারমীন শিলার কুকর্ম সীমাহীন মুল টার্গেট শিল্পপতি ব্যবসায়ী!!!

বনানী থানা ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার জোয়ারে

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

১০

জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

জনপ্রিয় সব খবর

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিংয়ে প্রতিবন্ধীর কাছ থেকেও রেহাই নেই

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

বনানী থানা ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার জোয়ারে

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

বনানীতে শারমীন শিলার কুকর্ম সীমাহীন মুল টার্গেট শিল্পপতি ব্যবসায়ী!!!

বিতর্কের জেরে নাজমুলকে দায়িত্বমুক্ত করছে বিসিবি

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

১০

টেন্ডারবাণিজ্য, দুর্নীতি ও হত্যা মামলা: শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব

সর্বশেষ সব খবর

সারাদেশ

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিংয়ে প্রতিবন্ধীর কাছ থেকেও রেহাই নেই

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিংয়ে প্রতিবন্ধীর কাছ থেকেও রেহাই নেই

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিং এলাকায় দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়ার কথা বলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ভুয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম ফারুক হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছেন। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকেও চাঁদা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, ফারুক হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ আছে—এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে বিভিন্ন অজুহাতে একাধিক দফায় টাকা আদায় করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী জানান, জীবিকার তাগিদে দোকান বসানোর আশায় তিনি অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু দোকান দেওয়ার পরিবর্তে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও চরম নিন্দনীয়।এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি ‘বিবিসি নিউজ ৭.২৪’-এর কাছে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সাংবাদিকতার মতো একটি সম্মানজনক পেশার নাম ব্যবহার করে এ ধরনের চাঁদাবাজি প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট ও মানসিক চাপই প্রধান কারণদেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ৪১ জন। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ হয়নি।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেন ১৩ হাজার ৯২০ জন।পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতাসম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন—এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক সমকাল। স্বজনদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের সহায়তা নেননি।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাগত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)। এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বড় মগবাজারে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। একই দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন।আত্মহত্যার আগে স্বামী সুমনের মোবাইলে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে শম্পা বলেন, “আজ আমার কোনো দোষ ছিল না। তুমি আমাকে চিৎকার করে কথা বলেছ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম, অথচ তুমি সবাইকে আমার নামে কথা বলছো…”বিষণ্নতা ও সম্পর্ক ভাঙনের চাপগত শনিবার খিলগাঁওয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানুর রহমান (৪৪)। পরিবারের ভাষ্যমতে, স্ত্রী সঙ্গে বিচ্ছেদ ও আর্থিক চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।এছাড়া ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯)। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই ছিল আত্মহত্যার কারণ।বিশেষজ্ঞদের মতফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানুষ সাধারণত একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য মিলেই আত্মহননের প্রবণতা তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে একাকী করে তোলে। এ অবস্থায় দুর্বল মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যাকে মুক্তি হিসেবে দেখে।” প্রতিরোধে যা বলছে পুলিশপুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে— পারিবারিক বিরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো সচেতনতামূলক প্রচার জরুরি অবস্থায় ৯৯৯–এ দ্রুত সহায়তা এই পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো একক সমস্যার ফল নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের সমন্বিত ফলাফল। সময়মতো সহানুভূতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

বনানী থানা  ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার  জোয়ারে

বনানী থানা ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার জোয়ারে

বনানী থানা  ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার  জোয়ারে।   করাইল অপরাধের আখড়া নামে চিহ্নিত। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর অস্ত্র উদ্ধার।  দক্ষতা ও চেষ্টায় একটি বিদেশি রিভলবারসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বনানী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম আব্দুস সামাদ (২৫)।বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বনানী থানাধীন কড়াইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানী থানা পুলিশ জানতে পারে কড়াইল জামাই বাজার ঝিলপাড় নরসিংদী পট্টি এলাকার একটি বাসায় রিভলবারসহ একজন অবস্থান করছে।প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশী .২২ ম্যাগনাম মিনি রিভলবারসহ আব্দুস সামাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে ১০ দলীয় জোট।মঙ্গলবার (সকাল) হাতিয়া উপজেলা সদরে এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটভুক্ত শরিক দলগুলো এ ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম। জামায়াত নেতা শাব্বির আহমেদ তাফসীরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন—এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, এলডিপির প্রার্থী আবুল হোসেন মো. বাবুল, এনপিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক শামছল তিব্রিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাতিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইউনুছ সাইফী এবং খেলাফত আন্দোলনের হাতিয়া উপজেলা সদস্য সচিব মুফতি ইছমাইল হোসাইন।বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার হরণে যুক্ত কিছু ব্যক্তি এবারও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। তথাকথিত ‘বিনা ভোটের’ জনপ্রতিনিধি ও তাদের সহযোগীরা ভোটের মাঠে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া না হয়—সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “যারা অতীতে মানুষের ওপর নির্যাতন করেননি এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা যদি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাই।”

আন্তর্জাতিক

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট ও মানসিক চাপই প্রধান কারণদেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ৪১ জন। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ হয়নি।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেন ১৩ হাজার ৯২০ জন।পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতাসম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন—এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক সমকাল। স্বজনদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের সহায়তা নেননি।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাগত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)। এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বড় মগবাজারে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। একই দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন।আত্মহত্যার আগে স্বামী সুমনের মোবাইলে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে শম্পা বলেন, “আজ আমার কোনো দোষ ছিল না। তুমি আমাকে চিৎকার করে কথা বলেছ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম, অথচ তুমি সবাইকে আমার নামে কথা বলছো…”বিষণ্নতা ও সম্পর্ক ভাঙনের চাপগত শনিবার খিলগাঁওয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানুর রহমান (৪৪)। পরিবারের ভাষ্যমতে, স্ত্রী সঙ্গে বিচ্ছেদ ও আর্থিক চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।এছাড়া ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯)। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই ছিল আত্মহত্যার কারণ।বিশেষজ্ঞদের মতফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানুষ সাধারণত একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য মিলেই আত্মহননের প্রবণতা তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে একাকী করে তোলে। এ অবস্থায় দুর্বল মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যাকে মুক্তি হিসেবে দেখে।” প্রতিরোধে যা বলছে পুলিশপুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে— পারিবারিক বিরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো সচেতনতামূলক প্রচার জরুরি অবস্থায় ৯৯৯–এ দ্রুত সহায়তা এই পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো একক সমস্যার ফল নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের সমন্বিত ফলাফল। সময়মতো সহানুভূতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

২৭ জানুয়ারি ২০২৬

আইন-বিচার

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট ও মানসিক চাপই প্রধান কারণদেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ৪১ জন। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ হয়নি।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেন ১৩ হাজার ৯২০ জন।পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতাসম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন—এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক সমকাল। স্বজনদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের সহায়তা নেননি।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাগত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)। এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বড় মগবাজারে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। একই দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন।আত্মহত্যার আগে স্বামী সুমনের মোবাইলে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে শম্পা বলেন, “আজ আমার কোনো দোষ ছিল না। তুমি আমাকে চিৎকার করে কথা বলেছ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম, অথচ তুমি সবাইকে আমার নামে কথা বলছো…”বিষণ্নতা ও সম্পর্ক ভাঙনের চাপগত শনিবার খিলগাঁওয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানুর রহমান (৪৪)। পরিবারের ভাষ্যমতে, স্ত্রী সঙ্গে বিচ্ছেদ ও আর্থিক চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।এছাড়া ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯)। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই ছিল আত্মহত্যার কারণ।বিশেষজ্ঞদের মতফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানুষ সাধারণত একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য মিলেই আত্মহননের প্রবণতা তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে একাকী করে তোলে। এ অবস্থায় দুর্বল মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যাকে মুক্তি হিসেবে দেখে।” প্রতিরোধে যা বলছে পুলিশপুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে— পারিবারিক বিরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো সচেতনতামূলক প্রচার জরুরি অবস্থায় ৯৯৯–এ দ্রুত সহায়তা এই পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো একক সমস্যার ফল নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের সমন্বিত ফলাফল। সময়মতো সহানুভূতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

২৭ জানুয়ারি ২০২৬

রাজনীতি

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট ও মানসিক চাপই প্রধান কারণদেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ৪১ জন। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ হয়নি।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেন ১৩ হাজার ৯২০ জন।পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতাসম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন—এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক সমকাল। স্বজনদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের সহায়তা নেননি।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাগত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)। এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বড় মগবাজারে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। একই দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন।আত্মহত্যার আগে স্বামী সুমনের মোবাইলে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে শম্পা বলেন, “আজ আমার কোনো দোষ ছিল না। তুমি আমাকে চিৎকার করে কথা বলেছ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম, অথচ তুমি সবাইকে আমার নামে কথা বলছো…”বিষণ্নতা ও সম্পর্ক ভাঙনের চাপগত শনিবার খিলগাঁওয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানুর রহমান (৪৪)। পরিবারের ভাষ্যমতে, স্ত্রী সঙ্গে বিচ্ছেদ ও আর্থিক চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।এছাড়া ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯)। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই ছিল আত্মহত্যার কারণ।বিশেষজ্ঞদের মতফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানুষ সাধারণত একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য মিলেই আত্মহননের প্রবণতা তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে একাকী করে তোলে। এ অবস্থায় দুর্বল মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যাকে মুক্তি হিসেবে দেখে।” প্রতিরোধে যা বলছে পুলিশপুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে— পারিবারিক বিরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো সচেতনতামূলক প্রচার জরুরি অবস্থায় ৯৯৯–এ দ্রুত সহায়তা এই পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো একক সমস্যার ফল নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের সমন্বিত ফলাফল। সময়মতো সহানুভূতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে ১০ দলীয় জোট।মঙ্গলবার (সকাল) হাতিয়া উপজেলা সদরে এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটভুক্ত শরিক দলগুলো এ ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম। জামায়াত নেতা শাব্বির আহমেদ তাফসীরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন—এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, এলডিপির প্রার্থী আবুল হোসেন মো. বাবুল, এনপিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক শামছল তিব্রিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাতিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইউনুছ সাইফী এবং খেলাফত আন্দোলনের হাতিয়া উপজেলা সদস্য সচিব মুফতি ইছমাইল হোসাইন।বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার হরণে যুক্ত কিছু ব্যক্তি এবারও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। তথাকথিত ‘বিনা ভোটের’ জনপ্রতিনিধি ও তাদের সহযোগীরা ভোটের মাঠে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া না হয়—সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “যারা অতীতে মানুষের ওপর নির্যাতন করেননি এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা যদি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাই।”

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

রাজধানীর বুকে আবারও রক্তাক্ত রাজনীতি—মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বির। বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদ, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম জানান, স্টার কাবাবের পাশের একটি গলিতে মোছাব্বির ও মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মোছাব্বিরকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। জোবায়ের হোসেন জাবেদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি চারদিকে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা দেখতে পান।ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন জানান, নিহত মোছাব্বির শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা সিটির পেছনে কাজীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে স্টার কাবাবের দোতলায় একটি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে অধিকাংশ নেতাকর্মী চলে যান। কিছুক্ষণ পর মোছাব্বির, সুফিয়ান মাসুদ, নুরুল আলম ও মিলন স্টার কাবাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।এ সময় একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। গাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বিএনপির এক নেতা নেমে মোছাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াসা অফিসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। মোছাব্বির তখন দুজনকে সঙ্গে যেতে বলেন। তাদের যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আসে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়।এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতেই কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।নিহত মোছাব্বিরের পরিবার গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তিনি কাউকে কোনোদিন ক্ষতি করেননি। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন শান্ত ও ভদ্র মানুষ। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড তারা মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা বলেন, পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা অবিলম্বে ন্যায়বিচার চান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নির্দেশ করে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তবে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কাটেনি। নিহত মোছাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কোনো মূল্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাষ্ট্র কি আদৌ নাগরিকের জীবন নিরাপদ রাখতে পারছে?

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা কীভাবে আগামী দিনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।এর আগে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় এবং এতে চীনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য নেই। তবে চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, সেই নির্বাচিত সরকার দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।হুমায়ুন কবির আরও জানান, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে চীন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।সার্বিকভাবে এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

জেল–জুলুম, নির্যাতন, দীর্ঘ বন্দিত্ব ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও আপসহীন থেকে দেশের গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবিরোধী রাজনীতির প্রতীক হয়ে থাকা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। কোটি মানুষকে শোকস্তব্ধ করে অনন্ত যাত্রায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। প্রিয় স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক এই সরকারপ্রধান।বুধবার (তারিখ) বিকাল পৌনে ৫টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।মায়ের কবরে নামলেন তারেক রহমানধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান সবার আগে কবরে নেমে নিজ হাতে মাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। তিনিই প্রথম মায়ের কবরে মাটি দেন। এরপর পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্যান্য স্বজন, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির শীর্ষ নেতারা একে একে কবরে মাটি দেন। (খবর: বাসস)দাফন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে তাঁদের সামরিক সচিব খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারেক রহমান ও তিন বাহিনীর প্রধানরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।মানিক মিয়া এভিনিউতে জনসমুদ্রদাফনের আগে দুপুরে জোহরের নামাজের পর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনস্রোত রূপ নেয় জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, ট্রাক ও ট্রেনে করে মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে।কালো ব্যাজ, চোখভরা অশ্রু আর কান্নাজড়িত দোয়ায় বিদায় জানানো হয় আপসহীন এই নেত্রীকে। অনেকেই বলছেন, দেশের ইতিহাসে এমন বিশাল জানাজা আর দেখা যায়নি।রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিজাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। পুরো আয়োজন পরিচালনা করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা।তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্যজানাজা শুরুর আগে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মরহুমা খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কারো কথায় বা আচরণে কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। দয়া করে তাঁর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।’আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের অংশগ্রহণমানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, ইরান, কাতারসহ ৩২টি দেশের কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক জানাজায় অংশ নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন।কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাজনসমাগম সামাল দিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়।জীবনাবসান৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘ বন্দিদশা ও চিকিৎসা-বঞ্চনার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। সেখানে কিছুটা সুস্থ হয়ে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন। তবে বয়স ও জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে পরম সত্যকে মেনে নেন আপসহীন এই নেত্রী।

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সমাহিত করা হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। শরিফ ওসমান হাদির জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য উপদেষ্টাবৃন্দ। দাফনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও সর্বস্তরের জনতা তাকে শেষ বিদায় জানান। জানাজার আগে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমরা আজ তোমাকে, প্রিয় হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি; আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি আমাদের কানে যে মন্ত্র দিয়ে গেছ, ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’—তা বাংলাদেশের কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন আমাদের শির কখনো নত হবে না। আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে চলব।” তিনি আরও বলেন, “হাদি আমাদের শিখিয়ে গেছে কীভাবে বিনীতভাবে মানুষের কাছে যেতে হয় এবং মানুষকে কষ্ট না দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়। আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করলাম এবং তা চালু রাখতে চাই। শরিফ ওসমান হাদি যুগ যুগ ধরে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।” ওসমান হাদির দাফনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধি কমপ্লেক্স এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে টিএসসি, কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং সমাধি কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং মসজিদের ফটকগুলো সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অকাল প্রয়াণে তার পরিবার, সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

খেলাধুলা

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

খেলাধুলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্দা উঠলো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগ-২৪

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্দা উঠলো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগ-২৪

স্পোর্টস ডেস্ক:  ক্যালিফোর্নিয়ার উডলি ক্রিকেট পার্কে ৮ দলের অংশগ্রহনে পর্দা উঠলো বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগ ২০২৪।গত রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টায় উডলি ক্রিকেট গাউন্ডে  বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠানিত হয়।  টুর্ণামেন্টের উদ্ধোধনী ম্যাচে রুথলেস গ্লাডিয়েটরস কে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় ক্যালিফোর্নিয়া ইগল। এছাড়া খেলার প্রথম রাউন্ডে চারটি পৃথক মাঠে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।এবারের আসরে সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্পন্সরে অংশ নেয়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের  টিম রুথলেস গ্লাডযেটরস।প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সিটির বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশী ক্রিকেটাররাও অংগ্রহন করেন।টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ নেয়া ৮টি দলের গ্রুপ "এ" তে বেঙ্গল ইলেভেন, এল এ বাংলা ইউনিক, নোহো টাইটানস, এসএফ ওয়ারিয়র্স & গ্রুপ "বি" তে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স, ক্যালিফোর্নিয়া ঈগলস, রুথলেস গ্ল্যাডিয়েটর্স  এবং সিলেট কনকোয়েরার্স। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৮টি দলের খেলোয়াড় ও গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার তিনশতাধিক ক্রিকেট ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন

পডকাস্ট পডকাস্ট

    কোন পডকাস্ট নেই !