রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আগামী শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ধর্মীয় প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান-এর পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সেবকদের যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি দিতেই সরকার সম্মানী প্রদানের এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেবল ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরই নয়, বরং দেশের অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিদেরও এই সম্মানী কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে মসজিদের খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত, এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের জন্যও সম্মানী প্রদানের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।সরকারের এই উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকরা আর্থিক সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রত্যাশা করে আসছিলেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, এই সম্মানী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে সারা দেশের কয়েক হাজার ধর্মীয় সেবক সরাসরি উপকৃত হবেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সম্মানী বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সেবকদের প্রতি সরকারের আন্তরিকতা ও ইতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এই কর্মসূচি দেশের সামাজিক স্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
আওয়ামী লীগ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল: ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিসংসদীয় প্রতিবেদক | ১২ মার্চ, ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল।” দীর্ঘ দেড় দশকের ‘ফাসিবাদী শাসনের’ অবসানের পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণরাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান:এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন।পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।সরকার আহতদের চিকিৎসায় ১২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে।শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ স্থাপনের কাজ চলছে।গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বএকটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তাকে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ‘আপসহীন নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে:মূল্যস্ফীতি: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।রিজার্ভ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।ব্যাংক খাত: ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে।পুঁজিবাজার: বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম তদন্তে একটি পৃথক কমিশন গঠন করা হবে।নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তারাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকার নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।প্রতিবেদনের মূল হাইলাইটস:প্রধান মন্তব্য: আওয়ামী লীগ আমল ছিল দুর্নীতির স্বর্ণযুগ।নির্বাচন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে সফল নির্বাচনের প্রশংসা।শ্রদ্ধা: বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্রে অবদানের স্বীকৃতি।অর্থনীতি: রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমছে।
উত্তপ্ত সংসদে ত্রয়োদশ অধিবেশন শুরু: রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট ও জামায়াতের ওয়াক-আউটনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা হট্টগোল, প্রতিবাদ এবং বিরোধী দলের ওয়াক-আউটের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। আজ বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।রাষ্ট্রপতির ভাষণে বাধা ও ওয়াক-আউটঅধিবেশনের শুরুতে স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানালে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’—এমন সব স্লোগান দেখা যায়। স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রতিবাদী সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক-আউট (কক্ষত্যাগ) করেন।সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণঅধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার এই সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।” তিনি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন এবং ১৯৭৩ সালের সংসদীয় রীতির উদাহরণ টেনে এই পদের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনঅধিবেশনের শুরুতে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও নির্বাচন প্রসঙ্গস্পিকার তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতায় ‘সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—এ হোক আমাদের মূলমন্ত্র।”অধিবেশনে যান্ত্রিক বিভ্রাটঅধিবেশন চলাকালীন সংসদের মাইক সিস্টেমে যান্ত্রিক বিভ্রাট দেখা দিলে স্পিকার বিশ মিনিটের জন্য সভা মুলতবি করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়।
বিগত দেড় দশকে কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না: সংসদে প্রধানমন্ত্রীনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে 'জনগণের সংসদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:ভোটহীন জনপ্রতিনিধিত্বের সমালোচনা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত দেড় দশকে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের এমপিদের কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। আজ প্রকৃত অর্থেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।"গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্তঋণ: নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, "আপনারা গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্তঋণে প্রতিষ্ঠিত সংসদের অভিভাবক নির্বাচিত হয়েছেন। আজ থেকে আপনারা কোনো দলের নন, বরং পুরো সংসদের অভিভাবক।"সংসদকে প্রাণবন্ত করার আহ্বান: বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে শাণিত যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সংসদকে অর্থবহ করতে সরকারি দল থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।জনগণের প্রত্যাশা: দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থই হবে এই সংসদের মূল অগ্রাধিকার।বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট:২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) সমালোচনা ফুটে উঠেছে এবং নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে।
সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির আভাস: কমতে পারে দিনের তাপমাত্রানিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা সারা দেশের আট বিভাগেই ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসআবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।তাপমাত্রা: সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা: আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।আগামী কয়েক দিনের চিত্রআবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিনের জন্য যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে:শুক্রবার (১৩ মার্চ): রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিনও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।শনিবার (১৪ মার্চ): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।রোববার (১৫ মার্চ): আবারও সারা দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসবর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ: কেন্দ্রবিন্দুতে ‘জুলাই সনদ’ ও ১৩৩ অধ্যাদেশনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই অধিবেশনে।অধিবেশনের মূল আকর্ষণ ও বিরোধের জায়গাআজকের অধিবেশনে প্রধান আলোচনার বিষয় ‘জুলাই সনদ’। তবে এটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:বিএনপির অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) সহকারে সনদটি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।বিরোধী দলের অবস্থান: জামায়াত ও এনসিপি ‘জুলাই সনদ’-এর হুবহু ও পূর্ণাঙ্গ (প্যাকেজ আকারে) বাস্তবায়ন চায়।বিরোধের বিষয়: তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনদীর্ঘদিন পর স্পিকারের পদটি শূন্য থাকায় এবারের অধিবেশন শুরুতে কিছুটা ভিন্নতা থাকছে:সভাপতিত্ব: সংসদ নেতা তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশন পরিচালনার আহ্বান জানাবেন।নির্বাচন: তাঁর সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।শপথ: নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ ভবনেই রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পাঠ করাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপি ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতকে দেওয়ার প্রস্তাব করলেও জামায়াত একে 'খণ্ডিত' কোনো পদ হিসেবে নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছে।প্রথম দিনের কার্যসূচিপবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু।স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন।শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও কিছুক্ষণ মুলতবি।রাষ্ট্রপতির ভাষণ: সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।অধ্যাদেশ উত্থাপন: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করবেন। এগুলো যাচাইয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কটের ঘোষণারাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি তাঁর ভাষণ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভাষণের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে লবিতে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।সংসদের গঠন ও পরিসংখ্যানসরকার ও বিরোধী দল: ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল।নতুন মুখ: এবারের সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন। তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য সংসদ সচিবালয় ও দলগুলো পৃথক ব্যবস্থা নিয়েছে।অনুপস্থিতি: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তৃতীয়বারের মতো দলটিকে ছাড়াই সংসদ বসছে। এছাড়া আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকায় দুই প্রার্থী অংশ নিতে পারছেন না।
নারীকে মূলধারার বাইরে রেখে জাতীয় সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: রাষ্ট্রপতিনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ৮ মার্চ, ২০২৬রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, নারীকে রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারা থেকে দূরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশবক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নই হবে তাদের আত্মত্যাগের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।”অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান:আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে।এই প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীরা অর্থনৈতিকভাবে সুফল পাবেন, যা পরিবারের স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।জিডিপিতে নারীর অবদান ও নিরাপত্তাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অনবদ্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “জিডিপিতে নারীর অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সকল খাতে তাদের অংশগ্রহণ থাকলেও উন্নয়ন টেকসই করতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”নতুন চ্যালেঞ্জ: সাইবার বুলিং ও বাল্যবিবাহবর্তমান সময়ের অপরাধের ধরণ পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন:সাইবার অপরাধ: অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।বাল্যবিবাহ: কন্যাশিশুদের বিকাশে বাল্যবিবাহ একটি বড় অন্তরায়। কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করতে হবে।দ্রুত বিচার: নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।অদম্য নারী পুরস্কার প্রদানঅনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সহস্রাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। অদম্য সাহসী ও সফল নারীদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্মকে সমতার মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীর অধিকার নিশ্চিতে কাজ করার আহ্বান জানান।